একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। তবে এর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত গ্রহণ করবে সাংবিধানিক সংস্থাটি। মঙ্গবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
সচিব বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য আইনগত ভিত্তি লাগবে। আরপিও-তে সংযোজন করতে হবে। ইভিএম ব্যবহার হবে কি হবে না তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে ৩০শে আগস্ট কমিশন সভায়।
যদি আরপিও সংশোধন হয় তবে আমাদের প্রসিডিউর থাকবে। কমিশন সিদ্ধান্ত নিলেও এটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয়। একটি কেন্দ্র বা ক’টি কেন্দ্রে হবে সে ধরনের সিদ্ধান্ত এখনো আমরা নেইনি। আইনগত ভিত্তি পেলে ইভিএম কেনা, প্রশিক্ষণের বিষয়টি আসবে।
হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আইন পাস হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবে কমিশন। তখনই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি হবে না। আর জাতীয় নির্বাচনের পরই সারা দেশের সব উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানেও ইভিএম ব্যবহার করা হবে।
দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য ইসি সচিবালয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আমরা প্রকল্প প্রস্তাব করেছি। ওইভাবে আলোচনা হয় নি। আগাম কিছু বলা যাবে না। এখন বললে বিভ্রান্ত করা হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন, কেনা, প্রশিক্ষণ, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলেই বিষয়টি আসবে, প্রশিক্ষণের বিষয়টি আসবে। ইভিএমের প্রভিশন থাকলে ব্যবহার করতেও পারি, নাও করতে পারি। আইনগত ভিত্তি পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। তবে আগামীতে ইভিএম প্রদর্শনী নিয়ে মেলা করার তথ্য তুলে ধরেন সচিব।
তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সেপ্টেম্বরেই কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মেলা হবে। এর বাইরে ১০টি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসেও মেলা করা হবে। ৩০শে অক্টোবর থেকে ২৮শে জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ভোট কবে নাগাদ করা হবে জানতে চাইলে কমিশন সচিব জানান, এখনো কোনো টাইম ফ্রেম কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় নি। তবে ডিসেম্বরের শেষদিকে ভোট করা হতে পারে। একটা সময় ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু ৩০শে অক্টোবর আমাদের সময় শুরু হবে, এরপরই যেকোনো সময় তফসিল করার সুযোগ রয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা ডিসেম্বরের মধ্যে করার। সেক্ষেত্রে শেষ সপ্তাহকে উপযুক্ত বিবেচনার ইঙ্গিত দেন তিনি।
সচিব বলেন, গেলবার ৫ই জানুয়ারি ভোট হয়েছিল। এখন তো ১লা জানুয়ারি বই বিতরণ, একাডেমিক বর্ষ শুরু হয়। সাধারণত ডিসেম্বরের শেষে বন্ধ থাকে, স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়। তা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।