যশোরে স্বামীর প্ররোচনায় স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ২ মাস পর মামলা

কোতয়ালি মডেল থানা, যশোর
কোতয়ালি মডেল থানা, যশোর

যশোরে দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যার প্ররোচনায় ঘটনায় প্রায় দুই মাস পর কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা হচ্ছেন, সদর উপজেলার মোমিন নগর নওদা গ্রামের খবির সিকদারের ছেলে বর্তমান খয়েরতলা বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইন্সষ্টিটিউট শ্রমিক কোয়াটারের আক্তারুল ইসলাম (৪০) ও তার স্ত্রী শাহিদা বেগম (৩২)। মঙ্গলবার ১১ ফেব্রুয়ারি নতুন খয়েরতলা গাজির ঘাট রোডের ফোরকান মোল্লার স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫০) বাদি হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, শাহিদা বেগম, আক্তারুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী। গত তিন বছর আগে আক্তারুল ইসলাম আমার মেয়ে ভানু বেগমকে (৩২) দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখে শান্তিতে কাটছিলো। এরই মধ্যে আমার মেয়ে ভানু বেগমের গর্ভে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। প্রথম স্ত্রী শাহিদা বেগমের কুপ্ররোচনায় আমার মেয়েকে তাড়াইয়া দেয়ার জন্য আক্তারুল বিভিন্ন সময় শারীরিক, মানষিক নির্যাতনসহ মারপিট করতো। আমার মেয়ে শিশু কন্যার ভবিষ্যত চিন্তা করে অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে সংসার করে আসছিলো। আমি আক্তারুলকে এধরণের কার্যকলাপ না করার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু সে আমার কথায় কোন কর্নপাত করেনা। গত ১৬ ডিসেম্বর আমার মেয়ে ভানু বেগম সাংসারিক কাজ করাকালে আসামি আক্তারুল ও শাহিদা বেগম আমার মেয়ের সাথে অশোভন আচারণসহ মেয়েকে বলে তুই যতদিন এ সংসারে থাকবি ততোদিন জ্বালাবো। তোর মুক্তির একমাত্র উপায় তুই বিষ খাঁ নতুবা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা কর। আসামিদের প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে আমার মেয়ে শ্রমিক কোয়াটারের শয়ন কক্ষে ব্যবহৃত শাড়ি গলায় পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যার যশোর জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।

এঘটনায় মেয়ের মা হাসিনা বেগম মঙ্গলবার ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ২ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।