আ’লীগ থেকে নির্বাচন করতে চান বিএনপির সাবেক মেয়র মনজুর

manjur

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রামের দাপুটে নেতা হ্যাটট্রিক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেশবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এম মনজুর আলম। তখন ২০১০ সাল। এখন ২০২০। এক দশকের ব্যবধানে দল পাল্টিয়ে এবার আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করতে চান মহিউদ্দিন-শীষ্য মনজুর।

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগদলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। এরই মধ্যে আটজন মেয়র পদে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। বিএনপিও যোগ্য প্রার্থী ঠিক করতে নানান হিসাব-নিকাশ কষছে। এর মধ্যে নানাজনের কথায় সাবেক মেয়র মনজুরের নাম ঘুরেফিরে আসছে।

এম মনজুর আলমের ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, তার আর বিএনপিতে ফেরার তেমন সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগের ডাকের অপেক্ষায় আছেন। আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবেন।

এ বিষয়ে মনজুর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, এখন আওয়ামী লীগের ডাকের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

‘ডাক পেলে ঢাকায় যাব। দল চাইতে হবে, না হলে ঢাকায় গিয়ে লাভ কী? এর বাইরে আমার কোনো সিদ্ধান্ত নেই,’ বলেন তিনি।

২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে হেরেছিলেন সেই সময়কার বিএনপি নেতা মনজুর আলম। সেবার ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। ভোটের দিন দুপুরে দল ভোট থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়ায় কিছুটা নাখোশ ছিলেন মনজুর। তিনি চেয়েছিলেন কেন্দ্রদখল, ভোট কারচুপি যাই হোক মাটি কামড়ে ভোটের মাঠে পড়ে থাকতে। সেই ক্ষোভ থেকে বিএনপি এবং রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন।

মহিউদ্দিন-শীষ্য মনজুর আলম পরে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়নি।

তবে সিটিতে মনজুর মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। তার কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন মনজুর চট্টগ্রামে অন্যতম সফল মেয়র। তার ইতিবাচক ইমেজ রয়েছে। একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক। তাই আওয়ামী লীগদলীয় কোন্দল এড়াতে এবার তাকেই বেছে নেবে।

এদিকে চসিক নির্বাচনে নৌকার মেয়রপ্রার্থী হতে এরই মধ্যে আটজন ঢাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের পাশাপাশি মেয়রপ্রার্থী হতে চাইছেন আরেক হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামও প্রার্থী হতে চান। এসব হেভিওয়েট নেতার ভিড়ে মনজুর আলম আওয়ামী লীগে ঠাঁই পাবেন কিনা, এটি নিয়েও স্থানীয় নেতাদের সংশয় রয়েছে।

২০১০ সালের নির্বাচনে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়ে নিজের রাজনৈতিক গুরু এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় ৯৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র হয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী মনজুর। পরে তাকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হয়। বিএনপির টিকিটে মেয়র হলেও মনজুর আওয়ামী লীগের খোলস ছাড়তে পারেননি। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করতেন নগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে। এ ছাড়া বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান করে সেটির ব্যানারে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। এ নিয়ে বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ ছিল তার প্রতি। তবু পরের নির্বাচনে তাকেই ধানের শীষের টিকিট দেয় বিএনপি। কিন্তু মনজুর নির্বাচনে আ জ ম নাছিরের কৌশলের কাছে কুলিয়ে উঠতে পারেননি।

এর আগে মনজুর আলম তিন দফায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর (কমিশনার) ছিলেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে বিভিন্ন সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়রেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০১৫ সালে সিটি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন মনজুর, যদিও পরে আবার পুরনো দলে ফিরে সংসদ নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন।

এ বিষয়ে মনজুর বলেন, রাজনীতি করব না বলেছিলাম, সঙ্গে এটিও বলেছিলাম সমাজসেবা করে যাব। সেই কমিটমেন্ট আমি রেখেছি। এক মিনিটের জন্যও সমাজসেবা থেকে বিচ্যুত হইনি। এটিও একটি দায়িত্ব পালন। মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন আমি করে গেছি।

এবারও নির্বাচনে আগ্রহী হলেও দলের মনোনয়ন না পেলে সে পথেই হাঁটবেন না বলে জানান মনজুর। যেহেতু দলীয় মনোনয়নেই নির্বাচন হচ্ছে, তাই দলের মনোনয়ন না পেলে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।