মৃত্যুর পরও ব্যবহৃত হচ্ছে সুশান্তের ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া!

সুশান্তের মৃত্যুর পর একদিকে যেমন নেটিজম নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া তেমনই প্রশ্ন উঠেছে সুশান্তের বেশ কিছু পোস্টকে ঘিরে। পুলিশের কাছে অভিনেতার ফোন জমা থাকলেও কোনো ব্যক্তি তা ব্যবহার করছেন। এমনই অভিযোগ তুললেন অভিনেতা রণবীর শোরে।

তিনি এখন সব কিছুর ঊর্ধ্বে। ঠিক ১৪ দিন আগে এমনই এক রবিবারে সুশান্ত আমাদের থেকে চলে গিয়েছেন অনেক দূরে। কিন্তু কোথাও যেন মন মানতে চায় না। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই বলিউডে জোরদার শুরু হয়েছে নেপোটিজম বিতর্ক। আঙুল উঠেছ সালমান খান, করণ জোহার, একতা কাপুরসহ বলিউডের বেশ কিছু তাবড় ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে। এমনকী বিহার আদালতে মামলাও দায়ের হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে।

সুশান্তকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে বিহার আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেও। সুশান্তের মৃত্যুর পর এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও কথাই বলেননি রিয়া। কিন্তু দু সপ্তাহ পর তিনি তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে কমেন্ট সেকশনটি ডিলিট করে দেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে সুশান্তের বেশ কিছু পুরনো ভিডিয়ো যেমন ঘোরাফেরা করছে তেমনই বেশ কিছু অসঙ্গতিও দেখতে পেয়েছেন ভক্তরা। যার জেরে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

সুশান্তের মৃত্যুর পর কেউ বা কারা তার ফোন ব্যবহার করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু অ্যাক্টিভিটি তাঁদের নজরে এসেছে। এবার সেই একই প্রশ্ন তুললেন সুশান্ত ঘনিষ্ঠ রণবীর শোরে। সম্প্রতি তার নজরে আসে একটি স্ক্রিনশট যেখানে দেখা যায় সুশান্ত ট্যুইটারে করণ জোহারকে ফলো করছেন।

এরপরই সেই স্ক্রিনশট শেয়ার করে রণবীর লেখেন,’যখন তদন্ত চলছে তখন কী করে কেউ সুশান্তের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে! ওর সোশ্যাল মিডিয়া এখনও অ্যাকটিভ। যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে তো ব্যাপারটা ভূতুড়ে বলতে হয়। কে সুশান্তের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে? অনেকেই আমাকে এই প্রশ্ন করেছেন। আমি মুম্বই পুলিশকে অনুরোধ করছি। দয়া করে বিষয়টির দিকে নজর দিন’।

সুশান্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত রণবীর শোরে। এছাড়াও তিনি Sonchiriya-তে অভিনয়ও করেছেন সুশান্তের সঙ্গে। এমনকী অভিনেতার শেষকৃত্যের দিনও উপস্থিত ছিলেন তিনি।

কিছুদিন আগে একই প্রশ্ন তুলেছিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও। রূপা লিখেছিলেন,’কেউ জানে না সুশান্তের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছু ডিলিট করা হয়েছে কিনা। বা কোনও পোস্ট নতুন ভাবে করা হয়েছে কিনা। কিন্তু পুলিশের কাছে ফোন জমা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে কেউ সুশান্তের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছে?

যখন আমি প্রথম শুনি, তখন আমারও বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু পরে আমি নিজেও তা খেয়াল করি এবং স্ক্রিনশট রাখি। এটা কীভাবে সম্ভব? কেন এখনও সিবিআই তদন্ত শুরু করছে না। এভাবে তো সব প্রমাণ এবার নষ্ট করার চেষ্টা করা হবে। কেন তদন্তে কোনও স্বচ্ছতা নেই? এই ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে এটা তো পরিষ্কার দোষীরা নিজেদের বাঁচাতে এসব করছে। আর কতদিন সিবিআই এর হস্তক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করতে হবে?

মৃত্যুর আগে সুশান্তের বেশ কিছু ট্যুইট ডিলিট করে দেওয়া হয়। সে বিষয়ে ট্যুইটার ইন্ডিয়ার কাছে সবিস্তারে জানতে চেয়েছে মুম্বই পুলিশ। সুশান্তের বাবাকে যখন জিগ্গেস করা হয়েছিল ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কোনও চাপের কথা তিনি শুনেছিলেন কিনা, তখন জানান,’ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সবই সম্ভব। এখানে কত কিছুই তো হয়। যখন কেউ বেশি সীফল্য পায় তখন তাকে দফিয়ে দেওয়ার জন্য এখানে অনেক কিছুই করা হয়। এখানেও ঠিক তেমনই কিছু হয়েছে।