খুলনা বিভাগের ৬ জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে পাট চাষ

jut

খুলনা বিভাগের ৬ জেলায় এ বছর (২০১৯-২০২০) পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৫ শ ২৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ কম হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর খুলনা বিভাগের ৬ জেলায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭ শ ৯৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২ শ ৬৭ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে যশোর জেলায় পাট চাষ হয়েছে ৮ হাজার ৬ শ ৩৫ হেক্টর জমিতে। ঝিনাইদহ জেলায় চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ২ শ ৭২ হেক্টর জমিতে। মাগুরা জেলায় চাষ হয়েছে ১ হাজার ১ শ ৭ হেক্টর জমিতে। কুষ্টিয়া জেলায় চাষ হয়েছে ২২ হাজার ৮ শ ৭১ হেক্টর জমিতে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় চাষ হয়েছে ১ হাজার ৮ শ ৫০ হেক্টর জমিতে ও মেহেরপুর জেলায় চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৫ শ ৮৭ হেক্টর জমিতে। তবে গত বছরের চেয়ে চলতি বছরে ১ হাজার ৬ শ ৩০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা কম নির্ধারণ করা হয়।

সূত্রটি জানায়, প্রতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পাট চাষ শুরু হয় আর শেষ হয় এপ্রিল মাসের শেষে। আর কিছু দিন পর পাট কর্তন শুরু হবে।

পাটচাষি চুড়ামনকাঠির হযরত জানান, এবছর তিনি এক একর (তিনবিঘা) জমিতে পাট চাষ করেছেন। সার, পানি, সব কিছু দিয়ে তার বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। তিন বিঘায় খরচ হয়েছে মোট ৩৬ হাজার টাকা। তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে ১৮ থেকে ২০ মন পাট হয়। গত বছরও তিনি প্রায় ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। প্রতিমন পাট বিক্রি করেছিলেন ১৬শ টাকা।

তিনি বলেন, গত বছর নিদিষ্ট সময়ের আগে পাট কেটে বিক্রি করার কারণে দাম একটু কম পেয়েছিলেন। যারা পরে পাট কেটে বিক্রি করেন তারা প্রতিমন পাট ১৮ শ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এবারো হযরতের জমিতে পাটের ভাল ফলন হয়েছে। পাটকল খোলা থাকলে কোন প্রাকৃতিক সমস্যা না হলে এবছরও তিনি পাট বিক্রি করে ভাল দাম পাবেন বলে আশাবাদি।

হযরতের মতো কৃষক হায়দার আলীও একই কথা বলেন্ তিনিও এবার ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুযোর্গ না হলে এবছরও পাটের ভালো দাম পাওয়া যাবে।

পাট চাষের লক্ষ্য মাত্র পূরণ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর যশোরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ মোঃ ফয়েজ উদ্দীন জানান, প্রতিকুল আবহাওয়া, চাষের জমি হ্রাস পাওয়ার কারণে প্রতি বছর পাট চাষ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হচ্ছে। এছাড়া অনেক কৃষক পাট চাষ লাভ জনক মনে না করায় তারা অন্য ফসল চাষের দিকে কারণে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে পাট চাষ এ বছর কম হয়েছে।
তবে পাটের কৃষকরা উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি পাচ্ছে।