ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের ‘মাইল্ড স্ট্রোক’

Rofiqul haque

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছে। এতে করে তাঁর ডান হাত অবস হয়ে গেছে। এ ছাড়া বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর শারীরিক দুর্বলতা ও রক্তশূন্যতা রয়েছে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমীন রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের বাসা থেকে টেলিফোন করলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের একজন ডাক্তার ও নার্স তার বাসায় যান। সেখানে গিয়ে ডা. রিচমন্ড রোল্যান্ড গোমেজ তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির জন্য পরামর্শ দেন। পরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়ার পর দেখা যায়, ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের ডান হাত কিছুটা দুর্বল। পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে।’

পারিবারিক সূত্র জানায়, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ২০১১ সালে স্ত্রী ডা. ফরিদা হকের মৃত্যুর পর থেকে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। তার ব্যক্তিগত ড্রাইভারই তার দেখাশোনা করেন। গত পৌনে ৪ বছর আগে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার হয়। এরপর থেকে তার স্বাভাবিক হাঁটাচলা ব্যাহত হয়। মাঝেমধ্যে পায়ে ব্যথা হয়। যে কারণে হুইলচেয়ারে যাওয়া-আসা করতে হয়। পুরানা পল্টনের ছায়াশীতল, নিরিবিলি বাড়িতেই থাকতেন বেশিরভাগ সময়। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া আদালতেও এখন আর তেমন তার যাওয়া হয় না।

রফিক-উল হক ১৯৩৩ সালের ২ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুমিন উল হক। ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, ১৯৫৭ সালে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৯৫৮ সালে এলএলবি অর্জন করেন তিনি। ১৯৬১ সালে ব্যারিস্টার (বার-এট-ল) ডিগ্রি অর্জন করেন।

রফিক-উল হক ১৯৬০ সালে কলকাতা উচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে বারের সদস্য হন। ১৯৬২ সালে তিনি ঢাকা উচ্চ আদালতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট হিসেবে ভর্তি হন। ১৯৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯০ সালে তিনি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনজীবী ছিলেন। কারণ তখন তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হয়ে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই করে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হন।