জিতলে ফাইনাল, হারলে বাদ; তামিমদের সামনে অলিখিত সেমিফাইনাল

ডু অর ডাই ম্যাচ। হারলে বিদায়। কিন্তু জিতলেই মিলবে ফাইনালের টিকিট। প্রেসিডেন্টস কাপ ক্রিকেটে অলিখিত সেমিফাইনালে বুধবার মাঠে নামবে তামিম একাদশ। প্রতিপক্ষ নাজমুল হোসেন একাদশ। আগাম উত্তেজনা ভর করা এই ম্যাচটি মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে বেলা দেড়টায়।

তিন দলের টুর্নামেন্ট। প্রতি দল খেলবে চারটি করে ম্যাচ। ডাবল লিগ পদ্ধতির সেই হিসাবে ইতোমধ্যে চারটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে মাহমুদউল্লাহ একাদশ। দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে দলটি। সেখানে তিন ম্যাচে এক জয়ে দুই পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে তামিম ইকবাল একাদশ। তিন ম্যাচে দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে নাজমুল হোসেন একাদশ। দলটির নেট রান রেটও ভালো। সেখানে তামিম ও মাহমুদউল্লাহ শিবির রয়েছে মাইনাসে।

শেষ ম্যাচে জিততে পারলে মাহমুদউল্লাহ ও তামিমদের পয়েন্ট হবে সমান ৪। নেট রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে ফাইনালের টিকিট মিলবে তামিমদের। অন্যদিকে খুব বেশি বড় ব্যবধানে তামিমদের কাছে না হারলে ফাইনাল খেলবে নাজমুলরাও। সে ক্ষেত্রে বিদায় ঘটবে মাহমুদউল্লাহদের। বুধবারের ম্যাচে তাই মাহমুদউল্লাহ একাদশ খুব করে চাইবে জিতুক নাজমুল একাদশ, হেরে যাক তামিমরা। কারণ তামিমরা হারলেই ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ফাইনালে নাজমুলদের প্রতিপক্ষ হিসাবে মাঠে নামতে পারবে মাহমুদউল্লাহ একাদশ।

টুর্নামেন্টে নাজমুল একাদশ বেশ ব্যালান্সড। দুটি জয়ই তারা পেয়েছে মাহমুদউল্লাহদের সাথে। তামিমদের সাথে প্রথম দেখায় হেরেছিল শান্তরা। সেই জয় প্রেরণা হিসাবে কাজে দেবে তামিমদের, এটা অনুমেয়। ১৫ অক্টোবর সেই ম্যাচে নাজমুল একাদশকে ৪২ রানে হারিয়েছিল তামিম একাদশ। মাহাদী হাসানের ঝড়ো ইনিংসে সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে তামিমরা করেছিল ৯ উইকেটে ২২১ রান। জবাবে নাজমুল একাদশ ৪৫.৪ ওভারে অল আউট হয়েছিল ১৭৯ রানে। সেই ম্যাচে নাজমুল একাদশের হয়ে সেঞ্চুরি করেছিরেন মুশফিকুর রহীম। কিন্তু জেতাতে পারেননি দলকে। এই ম্যাচে তামিম একাদশের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন কয়েক পেসার। ৮ ওভারে দুই মেডেনে মাত্র ১৫ রানে তিন উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। উদীয়মান পেসার শরিফুল ১০ ওভারে ৩৭ রানে নিয়েছিলেন সর্বোচ্চ চার উইকেট। সাইফ উদ্দিন ও মাহাদী হাসানও বল হাতে ছিলেন উজ্জ¦ল। ফাইনালে যেতে হলে সেদিনের মতোই জ¦লে উঠতে হবে তাদের।

প্রথম ম্যাচে তামিমরা বাজেভাবে হেরেছিল মাহমুদউল্লাহদের কাছে। ১০৩ রানে গুটিয়ে যাওয়া তামিমরা হেরেছিল ৫ উইকেটে। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেলেও তৃতীয় ম্যাচে সেই মাহমুদউল্লাহদের কাছেই ধরা খায় তামিমরা। হার মানে ৪ উইকেটে। তামিম একাদশ ৮ উইকেটে ২২১ রান করলেও চার বল হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যে পৌছায় মাহমুদউল্লাহরা।

তামিমদের জন্য অলিখিত ফাইনাল হলেও নাজমুল একাদশের জন্য তেমনটি নয়। লড়াই করে হারলেও ফাইনাল খেলবে শান্তরা। তবে সেই দিকে নজর নেই তাদের। দলটির প্রত্যাশা শেষ ম্যাচে জয় দিয়েই ভালোমতো ফাইনাল নিশ্চিত করা। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে নাজমুল একাদশ হারিয়েছিল মাহমুদউল্লাহদের। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে সেই মাহমুদউল্লাহদের আবারো নাজমুল একাদশ হারিয়েছিল একেবারে হেসেখেলে। ৮ উইকেটে ২৬৪ রান করেছিল নাজমুলরা। জবাবে মাহমুদউল্লাহরা গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ১৩৩ রানে। নাজমুলদের জয় ছিল ১৩১ রানে।

সেই জয়ের রেশ ধরে জ্বলে উঠতে চান নাজমুলরা। সেই সাথে তামিমদের বিরুদ্ধে একমাত্র হারের শোধটাও নিতে মরিয়া মুশফিক-সৌম্যরা। সেই সুযোগ দেবে তামিমরা? তা দেখা যাবে বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে।