‘মুসলিম ক্রিকেটারদের সুযোগ দেয়ায়’ চাকরি হারালেন ভারতীয় কোচ

wasim jafor

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলতে গিয়ে ইকবাল আব্দুল্লাহর সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে সাকিব আল হাসানের। ভারতের উত্তরপ্রদেশের আজমগর জেলায় জন্ম নেয়া এই তারকার সঙ্গে সাকিবের মিল এক জায়গায়। সাকিবের মতো ইকবাল আব্দুল্লাহও বাঁ-হাতি স্পিন অলরাউন্ডার।

আইপিএলে সাকিব-আব্দুল্লাহ একসঙ্গে শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কলকাতা নাইট রাইডার্সের শিরোপা জয়ে অনন্য অবদান রেখেছেন। মূলত আইপিএল খেলতে গিয়েই ইকবাল আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাকিব আল হাসানের পরিচয়। সেই পরিচয় থেকেই সাকিব আল হাসান ভারতীয় এই অলরাউন্ডারকে বাংলাদেশের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলার জন্য নিয়ে আসেন।

সেই আব্দুল্লাহকে অধিনায়ক করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন উত্তরখণ্ডের প্রধান কোচ ওয়াসিম জাফর। ভারতীয় এই সাবেক তারকা ক্রিকেটারের প্রস্তাবে গুরুত্ব না দিয়ে দলের কর্তারা বরং ওয়াসিম জাফরের বিরুদ্ধে মুসলিম ক্রিকেটারদের সুযোগ দেয়ার সাম্প্রদায়িক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ওয়াসিম জাফর।

এ ব্যাপারে ওয়াসিম জাফর বলেছেন, আমি সিএইউয়ের সচিব মাহিম বর্মা ও নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান রিজওয়ান শামশাদকে বলেছিলাম, আমাদের জয় বিস্তাকে অধিনায়ক করা প্রয়োজন। সে তরুণ খেলোয়াড় এবং দলের দায়িত্ব নিক। তারা আমার কথায় রাজি হয়। কিন্তু পরে এসে ইকবাল আবদুল্লাকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বললে আমি মেনে নেই।

ওয়াসিম জাফর আরও বলেছেন, গত ৩০ জানুয়ারি মাহিম বর্মাকে বলি আমরা নির্বাচন কমিটির প্রধানের সঙ্গে বসে দল গঠনের ব্যাপারটা মীমাংসা করতে পারি। কারণ আমি চেয়েছিলাম প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ৪-৫টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে। ৩১ জানুয়ারি ফের ফোন করে কতদূর কী হয়েছে জানতে চাই। কিন্তু মাহিম আমার ফোন ধরেননি।

জাফর আরও জানান, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে নিয়মিত পারফর্মারদের নেওয়ার জন্য আমি টিম ম্যানেজমেন্টকে চাপ দিয়েছিলাম। কিন্তু বর্মা এমন কিছু ক্রিকেটারকে দলে চাইছিলেন যারা দলে ঢোকার যোগ্য নয়। আমি ক্রিকেটারদের জন্য দুঃখিত। ওদের অনেকের দারুণ প্রতিভা রয়েছে। কিন্তু রাজনীতির কারণে সুযোগ পাচ্ছে না। দল নির্বাচনের সময় নির্বাচক কমিটি আমার সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি। কে কেমন খেলে তা জানার আগেই দল নির্বাচন করা হয়।