২২ ফেব্রুয়ারি টিকার দ্বিতীয় চালান আনছে বেক্সিমকো

covid 19 vaccine

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড নামক করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় চালান আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দেশে আনছে শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন এ তথ্য জানিয়েছেন। এই চালানে ২০ থেকে ৩০ লাখ ডোজ আনা হবে। প্রথম দফায় আনা হয়েছিল ৫০ লাখ ডোজ। এ টিকার ৩ কোটি ডোজ বাংলাদেশকে দিতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সেরাম।

দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আট দিন পর আজ সোমবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে টিকা নেন পাপন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আগামী ২২শে ফেব্রুয়ারি টিকার দ্বিতীয় চালান আসবে। এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ টিকা আনার চিন্তাভাবনা চলছে। আমাদের চাহিদার ওপর টিকার সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে। কারণ এখনও ৬০ লাখের বেশি টিকার মজুদ রয়েছে। টিকা নিয়ে কোনো সংকট হবে না।’

এ সময় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড নামক এই টিকাটি সবচেয়ে নিরাপদ বলে উল্লেখ করেন পাপন।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম চলছে। প্রথম চালানের ৫০ লাখ এবং ভারত সরকারের উপহারের দেয়া ২০ লাখ ডোজ টিকার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত নয় লাখেরও বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যেই করোনার দ্বিতীয় চালান আসার কথাও জানালেন নাজমুল হাসান পাপন।

সরকারিভাবে আসার কারণে এখনই বেসরকারিভাবে টিকা আনার কোন পরিকল্পনা নেই জানিয়ে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘নিজেদের জন্য বেসরকারি উদ্যোগে টিকার জন্য কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ সবাই ফ্রিতেই টিকা পাচ্ছেন। ফলে এখনই বেসরকারি পর্যায়ে টিকা আসছে না।’

এতো সুন্দর ব্যবস্থাপনায় টিকাদান বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও দিতে পারছেন না জানিয়ে পাপন সকলকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। কোভিশিল্ড নামক এই টিকা কিনতে গত ৫ নভেম্বর সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে টিকার ৫০ লাখ ডোজ পাঠানোর কথা সেরাম ইনস্টিটিউটের।

ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবেও বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে ২০ লাখ ডোজ টিকা। এই টিকা পাওয়ার পর ২৭ জানুয়ারি টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি ঢাকায় পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগ করা হয়। তারপর ৭ ফেব্রুয়ারি টিকাদান শুরু হয় সারা দেশে।