জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে

Abdul Hamid
ফাইল ছবি

গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং উন্নয়নের মত মৌলিক প্রশ্নে দল, মত, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে আপামর জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি একাদশ জাতীয় সংসদের ১২তম অধিবেশন এবং ২০২২ সালের প্রথম অধিবেশনে সংসদে ভাষণ দানকালে এ কথা বলেন। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং তাদের সকল প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় সংসদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত গৌরবোজ্জ্বল মহান স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে দেশ থেকে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়তেও সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি এ মহান জাতীয় সংসদে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলের সকল সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। আবদুল হামিদ বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখি, সুন্দর ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেয়া সবাইর পবিত্র কর্তব্য।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ি রাষ্ট্রপতি প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনে সরকারের বিগত দিনের সাফল্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ি এ ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করে এর ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত অন্যান্য অধিবেশনের মতো চলতি অধিবেশনও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় চার নেতা এবং অমর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করেছে।

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, ২০২১ সাল ছিল বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের জন্য এক অবিস্মরণীয় বছর। এ বছরেই জাতি উদ্যাপন করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নীতির কারণে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, যা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে সম্প্রীতি সহকারে স্ব-স্ব ধর্ম চর্চা করতে পারে সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবসমূহ নির্বিঘেœ যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা হচ্ছে। তথাপিও ধর্মের নামে কোনো ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী যাতে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে না পারে সে দিকে সবাইর সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।