তীরে এসে তরী ডুবল নেপালের

এতো কাছে তবু কত দূরে। নেপালের কাছে এমনটা মনে হতেই পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার খুব কাছেই ছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তীরে এসে তরী ডোবাতে হলো তাদের।

টি-টোয়েন্টিতে এর আগে কখনোই সাক্ষাৎ হয়নি এ দুদলের। সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভ্যালে স্টেডিয়ামে প্রথম সাক্ষাতে নেপালকে ১ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রোটিয়াদের মাত্র ১১৫ রানে আটকে দেয় নেপাল। তাড়া করতে নেমে সাবধানী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে পার করে তারা।

কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬ ওভারে যোগ করে ৩২ রান।

অষ্টম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্রেকথ্রু এনে তাবরাইজ শামসি। কেশভ মহারাজের জায়গায় আজ একাদশে সুযোগ পান বাঁহাতি এই লেগ স্পিনার। সেই সুযোগ লুফে নিলেন দু হাতে।

 

শামসির আঘাতের ধাক্কা কাটিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন আসিফ শেখ ও অনিল শাহ। তাতে জেতার আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায় নেপাল। একটা পর্যায়ে রানরেট ছিল হাতের নাগালে। ২৪ বলে ২৭ রান করা অনিলকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম। ১৮তম ওভারে আবারও জোড়া আঘাত হানেন শামসি। দীপেন্দ্র সিং ঐরীকে কট বিহাইন্ডের পর আসিফকে বোল্ড করেন ওভারের শেষ বলে। ৪৯ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ রান করেন আসিফ।

 

১৯তম ওভারের প্রথম চার বলে কোনো রানই দেননি নরকিয়া। একইসঙ্গে শিকার করেন একটি উইকেটও। কিন্তু পঞ্চম বলে ১০৫ মিটার বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন সোমপাল কামি। পরের বলে দুই রান নিলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য আট রান লাগে নেপালের।

 

ওটনিল বার্টম্যানের প্রথম দুই বল থেকে অবশ্য কোনো রান আসেনি। তবে তৃতীয় বলে হালকা শাফল করে কাভার দিয়ে চার হাঁকান গুলশান ঝা। পরের বলে একইভাবে ব্যাট চালালেও দুই রানের বেশি নিতে পারেননি। পঞ্চম বলে তাকে শর্ট বলে সমস্যায় ফেলেন বার্টম্যান। কাট করতে গিয়েও ব্যাটে লাগাতে পারেননি গুলশান। শেষ বলটিও একইভাবে করেন বার্টম্যান। এবারও ব্যাটে লাগাতে পারেননি গুলশান। কিন্তু দৌড়ে এক রান নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু অপর প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই দারুণ এক থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন হাইনরিখ ক্লাসেন। নেপালকেও ৭ উইকেটে ১১৪ রান নিয়ে।

 

এর আগে ব্যাট করতে নেমে সমান উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকাও। নেপালের স্পিনারদের সামনে তাদের কোনো ব্যাটারই খোলস ছেড়ে বের হতে পারেননি। ৪৯ বল খেলে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন রিজা হেনড্রিকস। নেপালের হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন কুশল ভুর্তেল। এছাড়া বাকি তিন উইকেট নেন দীপেন্দ্র। সেই স্পিনের ভরসায় থেকেই জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকার। ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন শামসি।

 

চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করল প্রোটিয়ারা। তবে আজকের হারে বিদায় ঘণ্টা বেজেছে নেপালের। তাই ডি গ্রুপ থেকে সুপার এইটের লড়াইয়ে রয়েছে কেবল বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটা অবশ্য সহজই বলা যায়। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ১৭ জুন নেপালকে হারালেই সুপার এইটে উঠবে তারা। অন্যদিকে ২ পয়েন্ট পাওয়া নেদারল্যান্ডসকে সুপার এইটে যেতে হলে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পাশাপাশি চেয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশের বড় হারের দিকে।