বেনাপোল কাস্টমস হাউজে এক হাজার ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থল বন্দরে আমদানি রফতানি বানিজ্যে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এই বন্দরে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এই রাজস্ব ঘাটতির মুল কারন বেনাপোল স্থল বন্দরে শুল্ক ফাকি, বানিজ্য নিষেধাজ্ঞা, নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চিয়তা কারনে এ রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে বলে ধারনা করছেন বেনাপোল স্থল বন্দরের ব্যবসায়ী সংগঠন ও বন্দর ব্যবহারকারীরা।

চলতি অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসের জন্য ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার রাজস্ব ল্যমাত্রা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে প্রথম ছয় মাসে ল্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপরে তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে ছয়-সাত শ ট্রাক পণ্য আমদানি ও আড়াই থেকে তিন শ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়। কিন্তু সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি আমদানি হয়েছে মাত্র ২৫৬ ট্রাক এবং রপ্তানি হয়েছে ৮০ ট্রাক। এই তীব্র পতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্বে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন বলেন, ‘বন্দরে আমরাও নিরাপত্তা চাই। তবে নিরাপত্তার নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাক দাঁড় করিয়ে তল্লাশি চালানোয় ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ভারতের মতো বন্দরের প্রবেশমুখে স্ক্যানিং মেশিন বসালে সময় ও খরচ দুটোই কমবে।’

বেনাপোল কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে রাজস্ব আদায়ের ল্যমাত্রা ছিল ৫০৮ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৫৪৪ কোটি টাকা। আগস্টের ল্য ছিল ৪৯৩ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৪৪৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের ল্য ছিল ৬০১ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৫১৩ কোটি টাকা। অক্টোবরে ল্য ছিল ৬৪৫ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৪৪৯ কোটি টাকা। নভেম্বরে ল্য ছিল ৭৫৫ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৫৬৪ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে ল্য ছিল ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, ‘শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব কমেছে, তবে বাণিজ্য স্বাভাবিক হলে অর্থবছর শেষে ল্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে আমরা আশা করছি।’