বসির আহাম্মেদ, ঝিনাইদহ- সাদা মাথা, গাঢ় বাদামি বিশাল দেহ, ডানা ছড়াতেই চারপাশ জুড়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার বিশালত্ব। প্রায় আট ফুট বিস্তৃত ডানার এই পাখিটি দেখতে দানবাকৃতির হলেও, প্রকৃতির এক নীরব প্রহরী। এটি হিমালয়ের গৃধিনী শকুন। ভয়ংকর অবয়বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অপরিহার্য রক্ষক, যা বিপন্ন প্রায়। ঝিনাইদহের মহেশপুরে উদ্ধার হয়েছে এই বিরল প্রজাতির এই প্রাণিটি।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার রাতে মহেশপুর উপজেলার নাটিমা গ্রামে অসুস্থ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায় বিশাল এই পাখিটিকে। মাঠে পড়ে থাকতে দেখে বিশাল আকৃতির এই শকুন ঘিরে দ্রুত কৌতূহল আর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী নাজমুল হোসেন। তিনিই নিশ্চিত করেন এটি বিরল হিমালয়ের গৃধিনী শকুন।
প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেন জানান, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে হিমালয়ে প্রচ- শীত পড়ে। তখন এসব শকুন অনেক দূরে চলে আসে। ধারণা করা হচ্ছে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে খাবারের সংকটে পড়ে পাখিটা অসুস্থ হয়ে গেছে। এত বড় প্রাণীটিতে দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় লোকজন।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার জানান, শকুনটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুস্থ হলে বনে করা হবে অবমুক্ত।
নাটিমা গ্রামে উদ্ধার হওয়া এই বিপন্নপ্রায় প্রাণীটি লম্বায় প্রায় ৮ ফুট আর ওজন প্রায় ১২ কেজি। উপজেলা বন বিভাগরে তত্বাবধানে বর্তমানে পাখিটির চিকিৎসা করা হচ্ছে।







