দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতা ও কারসাজি মোকাবিলায় সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রাথমিক কাজও শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ।
ফুয়েল কার্ড মূলত একটি বিশেষ পেমেন্ট কার্ড, যা পেট্রোল, ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি কেনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করলেও এর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ নির্ধারণ, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে, দাবি ইরানেরমধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে, দাবি ইরানের
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশকে বড় ধরনের চাপে পড়তে হতে পারে। এরই মধ্যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ইরান যুদ্ধের আগের মতোই সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত পাম্প থেকে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে মজুতদারদের ভূমিকাই বড় কারণ।
এই প্রেক্ষাপটে তেল অপচয় ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে ‘ফুয়েল কার্ড’ ব্যবস্থাকে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত এই কার্ডের মাধ্যমে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকের মালিকরা নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি নিতে পারবেন। প্রতিটি কার্ডে একটি কিউআর কোড থাকবে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করা যাবে।
ফুয়েল কার্ডে থাকছে যেসব সুবিধা:
১. সহজ পেমেন্ট: চালকরা ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো সহজেই ফিলিং স্টেশনে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। এতে নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমবে।
২. খরচ নিয়ন্ত্রণ: এই কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া সম্ভব হবে, যা তেলের অপচয় রোধে সহায়ক হবে। ডিজিটালভাবে জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারিত রিপোর্টও পাওয়া যাবে।
৩. নিরাপত্তা: কার্ডটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে তেলের চুরি বা অপব্যবহার রোধ করা যাবে।
৪. মজুতদারি রোধ: যেহেতু প্রতিটি গাড়ির তেলের হিসাব কেন্দ্রীয় সার্ভারে থাকবে, তাই কেউ চাইলেই অবৈধভাবে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুত করতে পারবে না।
৫. সময়ের সাশ্রয়: কাগজের রসিদ বা ভাউচার জমানোর ঝামেলা কমবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেনের হিসাব সংরক্ষিত হবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিস্টেমটি পুরোপুরি চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা আসবে এবং অসাধু চক্রের কারসাজি চিরতরে বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।