যশোরে জমি বিরোধে হত্যা: আসামিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

শহিদ জয়, যশোর : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হানুয়ার গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আব্দুস সালাম গাজী (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের স্বজনরা জানান, হানুয়ার মৌজার ১৬৮৬ নং আরএস খতিয়ানের ১৯০৯ নং দাগের ২৭ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, রেকর্ডের ত্রুটির সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ সিরাজ গাজী ও জামশেদ গাজীসহ তাদের সহযোগীরা জোরপূর্বক জমি দখল করে রাখে। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিস হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে আব্দুস সালাম গাজী আদালতে মামলা দায়ের করেন।

তাদের দাবি, মামলার জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। গত ৫ মার্চ সন্ধ্যায় পরিবারের এক সদস্য ওই পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত হন। এর পরদিন ৬ মার্চ সকাল আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে হানুয়ার বটতলা মোড়ে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় আব্দুস সালাম গাজীর ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে অমেদ নামের আরও একজন আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ মার্চ রাত ১টা ৫৫ মিনিটে আব্দুস সালাম গাজী মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ৭ মার্চ মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা (নং-১৬/৫৯) দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে বাদী পক্ষকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের ভাইপো রমজান আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের কন্যা মুন্নি খাতুন, বেলাল হোসেন, এমদাদ গাজী, আনিসুর রহমান, ইব্রাহিম হোসেন, মোশারফ হোসেন, নজরুল ইসলাম ও শাহানারা খাতুনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।