রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘আইনজীবী সমিতিগুলো খুবই শক্তিশালী। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় আইনজীবীদের ঐক্যের কারণে বিচারপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। ঐক্য ভালো। কিন্তু এই ঐক্য যেন অত্যাচারে পরিণত না হয়।’ তিন দিনের কিশোরগঞ্জ সফরের দ্বিতীয় দিনে রাষ্ট্রপতিকে স্থানীয় আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা জজকোর্ট প্রাঙ্গণে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়। সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘শুনেছি আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কেউ মামলা করলে এখানে নাকি উকিল পাওয়া না। এটা পেশাদারিত্ব না। সবারই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এগুলো বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা জন্ম দেয়, বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
কিশোরগঞ্জে মামলার খরচ অনেক বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে একজন বিচারপ্রার্থী উকালতনামা কিনতে গেলে নাকি ৩৭০ টাকা খরচ হয়। মুহুরিরা আরও কিছু খরচ রাখে। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচশত টাকার মতো খরচ হয়ে যায়। আমাদের দেশে যারা মামলা পরিচালনার জন্য আসেন সবাই বিত্তশালী নন। অনেক গরীব মানুষ বিচারপ্রার্থী হন। তাদের জন্য এটা অনেক টাকা। সুতরাং দেশের মানুষ যেন কম খরচে সহজে বিচার পেতে পারে সে বিষয়ে আইনজীবীদের লক্ষ্য রাখা উচিত। উকালতনামার ফি কমানো উচিত।’
কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ রশিদ। সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সহিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন কিশোরগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মাহবুব উল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ আদালতে কর্মরত আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা, বিচারক, জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশের যে বাজেট তা একসময় ৭৫৬ কোটি টাকার ছিল, এখন সেটা ৪ লক্ষ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে গেছে। এত বড় বাজেটের নব্বই ভাগ এখন আমরা নিজেরাই অর্থায়ন করতে পারবো। এটা একটা বিরাট অর্জন। আমাদের এই অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা রক্ষায় আইনজীবীদের একটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।’ এসময় তিনি কিশোরগঞ্জের আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের একটি ভবন নির্মাণের জন্য এক কোটি টাকা অনুদান দেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর রাষ্ট্রপতি বেশকিছু কর্মসূচিতে যোগ দেন। আগামীকাল বুধবার বিকালে রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।






