মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে দেশটির ধর্মমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে বক্তব্যের জন্য মিয়ানমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বলেছে বাংলাদেশ।
বুধবার বিকালে ঢাকাস্থ মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন উকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। রাষ্ট্রদূত উপস্থিত হলে তার সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এডমিরাল খুরশিদ আলম। এ সময় রাষ্ট্রদূতের হাতে একটি প্রতিবাদপত্রও ধরিয়ে দেয়া হয়। সূত্র বলছে, রাষ্ট্রদূতকে সচিব বলা হয়, মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রীর রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলী মুসলিম’ বলা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এ নিয়ে অতীতে বহু কথা বার্তা প্রতিবাদ হয়েছে স্মরণ করে দিয়ে বাংলাদেশ জিজ্ঞাসা করেছে মিয়ানমার কী তাহলে প্রত্যাবাসন চুক্তি ভুলে গেছে? ওই চুক্তিতে তাদের ‘ডিসপ্লেসড পারসন ফ্রম রাখাইন স্টেট’ লিখা রয়েছে। তাছাড়া এরা বেঙ্গলী হবে কেন? মিয়ানমারের নেতাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি দৃষ্টি দেয়ারও অনুরোধ জানায় ঢাকা।
রাষ্ট্রদূতকে এ-ও বলা হয় অবিভক্ত বাংলার সঙ্গে গোটা দুনিয়া ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে। বাংলার সমৃদ্ধি আজ থেকে নয়।
তার প্রতি প্রশ্ন রাখা হয়- এখানকার লোকজন বার্মা যাবে কেন? গেলে পশ্চিমে যাবে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে মিয়ানমারের এই বক্তব্যকে বাংলাদেশ খাটো করে দেখছে না জানিয়ে রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়- রোহিঙ্গা সংকটকে পাশ কাটাতে এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য মিয়ানমারকে পরিহার করতে হবে। তা না হলে সংকট বাড়বে।
মিয়ানমারের দূত কেবলই শুনেছেন জানিয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা স্পষ্ট করেই বলেছি হয় দেশটির সরকার মন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেবে না হয় মন্ত্রীর পক্ষ থেকে তারা ক্ষমা চাইবে। এটি হলেই ভুল বোঝাবুঝির নিরসন ঘটবে।






