যশোরের অভয়নগর উপজেলার পাথালিয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের হামলায় ধানের শীষের এজেন্ট শামছুর ফকির(৭৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উত্তেজিত বিএনপির হামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলায় ৭৩ টি কেন্দ্রর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট ছিল প্রয় শূণ্য।
নিহতের পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় পাথালিয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এজন্ট হয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন স্থানীয় বর্ণি গ্রামের সাবেক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামছুর রহমান ফকির। এ সময়ে সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা তাকে পিটিয়ে আহত করে। তাকে বাড়িতে নিয়ে স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। এর কিছুক্ষণ পরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের প্রতিবেশি এসকেন্দার আলী জানান, তাকে ব্যপক মারধর করা হয়েছে যে কারনে তার মৃত্যু হয়।
থানার অফিসার ইনচার্য আলমঙ্গীর হোসেন জানান, বয়েস্ক লোক পাঠানো হয়েছিল বিএনপির এজেন্ট করে। তাকে ধাওয়া করলে পালাতে পারেনি। পরে ধাওয়াকারীদের কিল ঘুষিতে সে আহত হয়। তাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসা চলাকালিন তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে শামছুর ফকির নিহতের ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে বিএনপির লোকজন ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সহ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল(৬৫)কে পিটিয়ে আহত করেছে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উপজেলার ধোপাদী সরকারি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে সকাল সাড়ে নয়টায় উপস্থিত হয়ে দেখা গেছে, এখানে ভোটারের উপস্থিতি খুব সামান্য। নৌকা প্রতীকের সকল এজেন্ট উপস্থিত ছিল। কিন্তু ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট দুই, একজন ছিল।
প্রিজাইডিং অফিসার জনান, ধানের শীষের দুই এক জন এজেন্ট উপস্থিত ছিল। ওই সময় মাধ্যমিক (মহিলা) কেন্দ্র ভোট গ্রহণ হয়েছে ২৭৮টি। এবং সরকারি প্রথমিক কেন্দ্রের ভোট পড়েছে ৬০০টি।
প্রিজাইডিং অফিসর জানান, আনুমানিক ৬০০টি ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ১০টায় নওয়াপাড়া মহিলা কেদ্রে পরিদর্শনে দেখা যায় এখানো ও বিএনপি এজন্ট শূন্য। এসময়ে ওই কেন্দ্রে বেশ কিছু ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। ওই কেন্দ্রের ৮টি বুথে মোট ভোট গ্রহণ করা হয়েছে ১হাজার ৭টি।
বাগদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে দশটায় অনেক ভোটার উপস্থিত ছিল। কিছুক্ষণ পর কেন্দ্রে বোমা বিস্ফরণ ভোটারা পালিয়ে যায়।
রাজঘাট সাভারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে সকাল ১১ টায় দিকে দেখাযায়, এখানে ৫টি বুথের সবকটিতে নৌকার এজেন্ট আছে। এছাড়া পাখা প্রতীকের এজেন্ট ছিল একজন ও লাঙ্গলের দুই জন এজেন্ট ছিল। কিন্তু ধানের শীষের কোন এজেন্ট পাওয়া যায়নি।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তরিকুজ্জামান জানান, একজন ধানের শীর্ষের এজেন্ট ছিল তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রে ভোটারের কোন উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি। ওই কেদ্রের সীমানার মধ্যে অনেক গুলো যুবক জটলা করতে দেখা যায়।
দুপুর ১.২০টায় মধুরাপুর কেন্দ্র পরিদর্শণে দেখা যায়, ভোটারের কোন উপস্থিতি নেই। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বিভূতি ভূষণ জানান, এ পর্যন্ত আমার কেন্দ্র ৫০ শতাংশ ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ধানের শীষের কোন এজেন্ট কেন্দ্র আসেনি।
ওই কেন্দ্র ভোট দিতে এসেছিলেন তৈয়েব আলী(৪৮) তিনি জানান, আমার নামে কে জাল ভোট দিয়ে গেছে যার দরুণ আমি ভোট দিতে পারিনি। এ ছাড়া দক্ষিণ দেয়া পাড়া কেন্দ্রে ভোটর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি। এখানেও ধানের শীষের কোন এজেন্ট দেখা যায়নি।







