বাবার কবরে ইশরাকের শুরু, তাপসের পথসভায়

dscc tapos israk
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস ও বিএনপির ইশরাক হোসেন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর বাবার কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার দিনটি শুরু করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন।

অন্য দিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নুর তাপস প্রথম পথসভার মধ্য দিয়ে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে গোপীবাগের সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা দক্ষিণের রির্টানিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন মেয়র পদের প্রার্থীদের প্রতীক বুঝিয়ে দেন।

এরপর ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক জুরাইনে তার বাবা অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের টানা দুই বারের মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সদ্যপ্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার কবর জিয়ারত করেন।

দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমআর নামাজ আদায়ের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে ভোটের প্রচার শুরু করেন ইশরাক।

আর নৌকা প্রতীক পেয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে তাপস ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউনের ই হক স্কুলের সামনে পথসভায় প্রচার শুরু করেন।

সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি তাপসের
জনগণের কাছে গিয়ে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, “৩০ জানুয়ারি বিজয়কে সুনিশ্চিত করে প্রাণপ্রিয় ঢাকাকে ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা এবং উন্নত ঢাকা গড়ব। সেই উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে আজ থেকে যাত্রা শুরু।”

জনগণের কাছে ভোট ও দোয়া প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, “আপামর জনগণ সেবক হিসেবে নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়ে একসাথে এই যাত্রায় শরিক হবেন। দোয়া করবেন, সমর্থন করবেন।”

এসময় কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ৭০ নং ওয়ার্ডের আতিকুর রহমান, ৬৯ ওয়ার্ডের হাবিবুর রহমান হাসু এবং সংরক্ষিত আসনে সেলিনা খানকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পথসভার পর এলাকার অলিতে-গলিতে ঘরে ঘরে ঢুকে, দোকানে দোকানে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন তাপস। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া ও নৌকার জন্য ভোট চান তিনি।

এসময় নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য হিসেবে প্রচারণায় আলাদাভাবে দৃষ্টি কাড়েন তাপস। তাকে দেখতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন; তার হাতে মেলান। তাপসও দোয়া চেয়ে তাদের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন ও নৌকার লিফলেট দিয়ে ভোট চান।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবুল হাসনাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোরশেদ হোসেন কামাল, ডেমরা থানার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সজল ও স্থানীয় সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লা তাপসের সঙ্গে ছিলেন।

এর আগে প্রতীক বুঝে পেয়ে তাপস ডেমরায় গেলে তিনি এলাকায় পৌঁছালে স্লোগান ও করতালিতে তাকে স্বাগত জানান স্থায়ী নেতাকর্মী ও জনগণ। পথসভার অস্থায়ী মঞ্চে উঠে তাপস গণসংযোগ উদ্বোধনের আগে স্মরণ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনকে, যাদের আত্মত্যাগে এসেছে স্বাধীনতা।

‘গণতন্ত্রের মুক্তির’ মিশন ইশরাকের
জুমআর পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে উত্তর গেইটে সাংবাদিকদের সামনে ইশরাক বলেন, “আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, আমরা যে আন্দোলন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মায়ের মুক্তির জন্য আমরা যে আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়েছি, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য যে আন্দোলনের আমরা অবতীর্ণ হয়েছি।

“ধানের শীষে ভোট দেবেন। ইনশাল্লাহ আমাদের বিজয় আসবে এবং আমাদের দেশনেত্রীকে মুক্ত করে ছাড়বই।”

মির্জা ফখরুল ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এসময় তার পাশে ছিলেন।

এর আগে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি এবং ইশরাক হোসেনকে সামনে নিয়ে সেই আন্দোলন আমরা শুরু করলাম।”

পরে মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দ ইশরাকের লিফলেট বিতরণ মানুষের কাছে বিতরণ করেন। মসজিদ থেকে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী মিছিল করে ইশরাককে নিয়ে বের হয় এবং পথচারীদের কাছে লিফলেট বিতরণ করে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে লড়ছেন ৭ জন। শুক্রবার থেকে থেকে ১৮ দিন প্রচার শেষে ভোটগ্রহণ হবে ৩০ জানুয়ারি।