যশোরে পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

police wife

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক স্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাব হল রুমে এ সংবাদ সম্মেলন করেন জেসমিন বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে জেসমিন বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী পুলিশের এসআই আজিজুল হক সবুজ। তিনি তার চতুর্থ স্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রী মরিয়ম খাতুন পারুলের মৃত্যুর পর দুই সন্তানসহ সবুজ কষ্টে আছে ও বিভিন্ন ধরণের আবেগঘন কথাবার্তা বলে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমিও তখন স্বামীহারা। ফলে ২০১৯ সালে ২৭ ডিসেম্বর জীবনটা তার হাতেই সোপে দিয়। নতুন জীবন শুরু করি সবুজের ধর্মতলা রঘুরামপুর গ্রামের সকুজের ফ্লাটে। সবুজ তখন ঢাকাতে কর্মরত আর তার একছেলে এক মেয়ে নিয়ে ওই বাড়িতে থাকতাম আমি। বিয়ের কয়েকদিনের মাথায় আমার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। যৌতুকের দাবিতে আমার উপর নির্মম নির্যাতন শুরু করে সবুজ। বাধ্য হয়ে আমি সাত লাখ টাকা দিই। কয়েকদিন ভালো থাকার পর আবার টাকা চাইতে শুরু করে। ধাপে ধাপে সে আমার সোনা গহনা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করে টাকা হজম করে। সবুজ যখন যশোরে আসতো সেসময় নারী ও মাদক নিয়ে মেতে থাকতো। প্রতিবাদ করলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকিও দিতো। এরমধ্যে সবুজের ছেলে মেয়ে আমাকে পরিস্কার করে দেয় সবুজের জীবন চিত্র। পারুলকে সবুজই হত্যা করেছে। এছাড়া আমার বিয়ের আগে সাতক্ষীরার লাকসার লাকি, পাটকেলঘাটায় জেসমিন আরাকে বিয়ে করে। আমি তার চার নম্বর স্ত্রী। শুধুই তাই নয় সবুজ আমার সাথে সংসার করা কালীন সময় ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার দোহারের লাবনী নামের আরেক মেয়েকে বিয়ে করে। এসব জেনে আমি আর সবুজকে টাকা দিতে রাজি হয়নি। এরপর সে আমাকে ২১ সালের ১০ ফেব্রয়ারি বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর আমি আদালতে বাধ্য হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি মামলা করি। পরে আরো দুইটি মামলা করি। ৯ মার্চ পুলিশ হেডকোয়াটারে বরাবর অভিযোগও করি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পায়নি। এসব জেনে সবুজ ২২ মার্চ আমার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা করে। সবুজ ওই সব মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন খুন জখমের হুমকি থামকি দিচ্ছেন। বড় বউকে মেরেছি কেউ কিছু করতে পারিনি। তোকেও মেরে ফেলবো আমার কিছুই করতে পারবেনা না বলে বিভিন্ন ধরণে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, আর এসব অভিযোগ করেন জেসমিন বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে জেসমিন বেগমের আত্মীয়-স্বজনা উপস্থিত ছিলেন।