সেরামের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবতে বললো সংসদীয় কমিটি

covid 19 vaccine

চুক্তি অনুযায়ী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা না দেওয়ায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যায় কিনা, সেটি ভেবে দেখতে বলেছে সংসদীয় কমিটি। রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ভারত থেকে চুক্তি অনুযায়ী টিকা না আসার বিষয়ে আলোচনার পর কমিটির পক্ষ থেকে এ সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশ প্রথমে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা অনুমোদন দেয়। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ৩ কোটি টিকা আনার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী আগাম টাকাও দেওয়া হয়।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রানেজেকার টিকা দিয়ে বাংলাদেশ গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান শুরু করলেও দুই চালানের (৮০ লাখ) পর আর টিকা দেয়নি সেরাম ইনস্টিটিউট।

ফলে সরকার টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ রেখেছে। যে টিকা এখন মজুত আছে, তা দিয়ে দ্বিতীয় ডোজও সবার দেওয়া সম্ভব হবে না।

সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে সরকারের কেনা এবং ভারতের পাঠানো উপহারের টিকা মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ।

এমতাবস্থায় সেরাম কেন টিকা দেওয়া বন্ধ করল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আজকের বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান গণমাধ্যমকে বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই সংসদীয় কমিটি বলেছিল, একাধিক সোর্স থেকে টিকা আনার ব্যবস্থা করতে হবে। এখন একটা সোর্স থেকে নিলেন কেন? এটা আমরা জিজ্ঞেস করেছি। মন্ত্রণালয় আমাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে— এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তবে তারা এখন একের অধিক সোর্স থেকে টিকা আনার চেষ্টা করছে। ভারত থেকেও আশা করছে জুলাইয়ে পাবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে। রাশিয়া ও চায়না থেকে আনার চেষ্টা তো করছেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা টিকার দ্বিতীয় ডোজ শেষ করার জন্য ভারতের যে টিকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত আছে, সেটা আনা যায় কিনা, সেই উদ্যোগ দ্রুততার সঙ্গে নিতে বলেছি। বলেছি, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট যে আমাদের দিলো না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবেন কিনা, সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে বলেছি।

ভারতের ভাইরাসের ধরন বাংলাদেশে পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কমিটির সভাপতি ফারুক খান বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে লকডাউনটা আরও শক্তিশালী করতে বলেছি। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিজিবিকে আরও শক্তিশালী টহল দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’

রোববার সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকে ভ্যাকসিন পাবার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মে মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে সংসদীয় কমিটিকে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়।

ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, হাবিবে মিল্লাত ও কাজী নাবিল আহমেদ অংশ নেন।