ভারতফেরত বাংলাদেশিদের জন্য যশোরের ১৬ হোটেল রিকুইজিশন

benapol

যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) আরো ৬৯ জন পাসপোর্ট যাত্রী দেশে ফিরেছে। এদেরকে বিভিন্ন হোটেলে রাখা হয়েছে। করোনা রোগী বা বিদেশ ফেরত যাত্রীদের কোয়ারেন্টানে রাখার জন্য যশোর শহরের ১৬টি হোটেল রিকুইজিশন করা হয়েছে। স্থান সংকুলান না হলে পার্শ্ববর্তী চার জেলার হোটেল গুলোও রিক্রইজিশন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় যশোরের হোটেলের মালিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানান, ভারত থেকে যে পরিমান পাসপোর্ট যাত্রী ফেরত আসার কথা আমরা চিন্তা করছিলাম তার থেকে অনেক বেশি লোকজন আসছে। বেনাপোলের হোটেল গুলো পূর্ণ হয়ে গেছে। ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীর দরগাহ এতিমখানা ও মাদ্রাসার ভবনও পূর্ণ হয়ে গেছে। যে কারণে ভারত ফেরত যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে যশোর শহরের হোটেল গুলো রিক্রুইজিশন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। হোটেলের মালিকগণ স্বল্প মূল্যে পাসপোর্ট যাত্রীদের রাখতে সম্মত হয়েছেন। এছাড়া এসব হোটেলে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যে কারণে যশোর শহরের হোটেল গুলোর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল জেলার হোটেল গুলোতেও তাদের রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভারত ফেরত যাত্রীদের দেখ ভালের করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল হাসান। শুক্রবার ভারত ফেরত ৬৯ জন পাসপোর্ট যাত্রীর মধ্যে ৯ জনকে বেনাপোল হোটেলে, (এর মধ্যে মৃত ব্যক্তির ২জন এটেনডেন্ট রয়েছে) গাজির দরগাহ এতিম খানায় ১৪ জন, যশোরের হোটেলে ৩৬ জন ও ১০ জনকে মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়।

এনডিসি কেএম মামুনুর রশিদ জানান, এখন পর্যন্ত ১৬টি হোটেল রিক্রইজিশন করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর আইসিটি পার্কের থ্রি-স্টার মানের হোটেল, জাবের ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সিটি প্লাজা, হোটেল ম্যাগপাই, হোটেল আর এস, হোটেল মনিহার, হোটেল ম্যাক্স, হোটেল সোনালী, সিটি হোটেল, হোটেল শাহরিয়ার, হোটেল বলাকা, হোটেল নয়ন, হোটেল নিউ ওয়ে, হোটেল প্রিন্স, হোটেল সিটি, যশোর হোটেল রয়েছে।

এদিকে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সালাউদ্দিন শিকদার জানান, যে সব স্থানে ভারত ফেরত যাত্রীদের রাখা হয়েছে সে সব স্থানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। ১৪ দিন অবস্থানের পর করোনা নেগেটিভ সনদ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এসব যাত্রীদের নিজ বাড়ির উদ্দেশে যেতে দেয়া হবে।