পাকিস্তানের ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই ফিরে গেছেন মার্কিন প্রতিনিধি দল। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল আলোচনা কেন কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো, তা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে।
তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার প্রধান তিনটি কারণ সামনে উঠেছে।
তবে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে পারমাণবিক ইস্যুকে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে এই মর্মে একটি ‘ইতিবাচক ও চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি’ চেয়েছিল যে তারা ভবিষ্যতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কিন্তু ইরান শুধুমাত্র বর্তমান সময়ের জন্য কিছু ছাড় দিতে রাজি হলেও দীর্ঘমেয়াদী বা চিরস্থায়ী কোনো অঙ্গীকার করতে রাজি হয়নি। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল অত্যন্ত কঠোর, যা তেহরানের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চুক্তি না হওয়ার দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। ইরানের বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার যে দাবি জানিয়েছে, তাকে ইরান ‘অযৌক্তিক ও উচ্চাভিলাষী’ বলে মনে করছে। ইরান মনে করে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের একক নিয়ন্ত্রণ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র এই নিয়ন্ত্রণের অবসান চেয়েছিল, যাকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
এদিকে, ইরানি প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে সামরিকভাবে যা অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার টেবিলে আদায় করতে চেয়েছিল। ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও তারা মাথানত করতে রাজি নয়। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন সব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল যা অনেকটা ‘আত্মসমর্পণের’ শামিল।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই ত্রিপক্ষীয় অচলাবস্থার কারণে ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখন সুতোয় ঝুলছে। জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ ত্যাগের আগে জানিয়েছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর।







