৯৬ বছর ধরে বিনামূল্যে খাওয়ানো হয় যেখানে

১৯২৪ সালের কথা। হঠাৎ খাদ্যাভাব দেখা দিলো ঢাকায়। ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে মানুষ। প্রতিদিন না খেয়ে থাকছে হাজার হাজার লোক। মানুষের এমন আহাজারি দেখে নবাবপুরের স্থানীয় জমিদারের তিন ছেলে ক্ষুধার্ত মানুষের যন্ত্রণা অনুভব করলেন। সামর্থ্য অনুযায়ী ভার নিলেন ১২৫ জন মানুষের। প্রতিদিন এই মানুষগুলোকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেন তারা। পিতার নামে করলেন মদনমোহন অন্নছত্র ট্রাস্ট।
এরপর থেকে এক-দুই দিন নয়, টানা ৯৬ বছর ধরে অভূক্ত মানুষের এই খাবারের ব্যবস্থা চলে আসছে।

নবাবপুরের স্থানীয় জমিদার মদনমোহন পালের তিন ছেলেরা হলেন- রজনীকান্ত পাল, মুরলীমোহন পাল আর প্রিয়নাথ। এখানে ধর্ম-জাত-পাতের কোনো ভেদাভেদ নেই। ক্ষুধার্ত অবস্থায় যিনি আসবেন, তিনিই খেতে পাবেন।

ট্রাস্টের ব্যবস্থাপক পরিমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেন, মানুষের কষ্ট দেখে তখন তাদের খুব খারাপ লাগে। তাই বাবার নামে মদনমোহন পাল অন্নছত্র ট্রাস্ট এস্টেট গঠন করলেন। নিজেদের ৯টা বাড়ি লিখে দিলেন এই ট্রাস্টের নামে। ওই ৯টা বাড়ি এখন মার্কেট। সেই আয় দিয়েই চলে ট্রাস্ট।

জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৮টায় দিকে রান্না শুরু হয়। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় খাবার বিতরণ। উচু, নিচু, ধর্ম, জাতপাত ভুলে সবাই এক হয়ে যান এখানে। কেউ বসে খাচ্ছেন, কেউ পরিবারের সদসদ্যদের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে খাবার শেষ হয়ে গেলে, আবার নতুন করে রান্না হয়।

পাচক স্বপন চক্রবর্তী বললেন, ১২৫ জন দিয়ে অন্নছত্র শুরু হলেও এখন রোজ দুপুরে প্রায় আড়াইশ’ জনের রান্না হয়। প্রতিদিন ৩৫ কেজি চাল ১ মণ সবজি আর ৫ কেজি ডাল রান্না করেন তিনি। ট্রাস্টের শুরু থেকে এই তিনটি পদই রান্না হয়ে আসছে।

অন্নছত্রের একজন নিয়মিত মেহমান মো. রফিক মিয়া (৭০) জানান, তিনি ২০ বছর ধরে এখানে খাবার খেয়ে আসছেন। এখানে খাবার ভালো। বসার একটু কষ্ট হলেও এখানকার সেবকদের ব্যবহার অনেক ভালো। সবাইকে ভালোভাবে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করেন।

ট্রাস্টের আরেক মেহমান সালমা বেগম বললেন, এখানে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রকম খাবার রান্না হয়। যেমন পায়েস, সেমাই, পোলাও, বিরানি- সেগুলো আমাদের খাওয়ানো হয়।