যশোরে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই ঘটনায় আরও দুই জন আটক

db news

যশোরে ইউ সি বি এল ব্যাংকের সামনে থেকে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই মামলার অন্যতম দুই আসামিকে আটক করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। এ সময় ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

আটক দুই জন হচ্ছেন যশোর শহরের মোল্লাপাড়া আমতলার লিটন হোসেনের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত রাজু ও শহরতলীর ধর্মতলা খ্রিস্টান কবর স্থানের পাশের তবিবর রহমানের ছেলে সোহেল শেখ। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবরের মধ্যে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে ছিনতাই মামলার আরো ৫ আসামিকে আটক করে। এই নিয়ে ছিনতাই মামলার মোট ৭ আসামিকে আটক ও ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হলো।

সোমবার দুপুরে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা স্থল শহরের এম এম আলী রোডের ইউ সি সি ব্যাংকের সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহম্মদ আশরাফ হোসেন এ তথ্য জানান।

শান্তির শহর যশোরে কেউ বিশৃংখলা করতে পারবে না দাবি করে, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে প্রকাশ্যে শহরের এম এম আলী রোডে অবস্থিত ইউসিবিএল ব্যাংকের সামনে থেকে মোটর পার্টস ও ফল ব্যবসায়ী এনামুুল হককে ছুরিকাঘাত করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। এসময় ডাকাতরা বোমা ফাঁটিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি পুলিশ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়। ছিনতাইকারিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। শহরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ প্রথমে ৫ জনকে গ্রেফতার করে। এসময় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৫শ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের আদালতে চালান দেয়া হলে তারা ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ও ডাকাতির সাথে আরো যারা জড়িত তাদের নাম জানায়। পুলিশ বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিবি পুলিশ মামলার মূল আসামি ঢাকার আদাবর এলাকা থেকে ইয়াসির আরাফাত রাজুকে রোববার (৪ অক্টোবর) আটক করে। তার কাছ থেকে লুন্ঠিত ১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই দিন বেলা ১১ টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার কালনা ফেরিঘাট এলাকা থেকে র‌্যাব সোহেল শেখকে (২৩) আটক করে। এর আগে ৩ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মাগুরার আড়পাড়া থেকে রাজু মা মেহেরুন নেসাকে আটক ও তার কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এই নিয়ে ছিনতাইকৃত ১৭ লাখ টাকার মধ্যে ৯ লাখ টাকা উদ্ধার হলো।

পুলিশ সুপার আরো জানান, ডাকাতির বাকি টাকা উদ্ধারের জোর চেষ্টা চলছে। যশোরের মাটিতে সন্ত্রাসীদের কোন স্থান নেই। যশোর জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রনে। কেউ অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে না। মামলায় কত জন আসামি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মামলার অন্যতম আসামি জামাই রাজ্জাককে আটক করার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ) তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) গোলাম রব্বানী, যশোর কোতয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, যশোর ডিবি পুলিশের ইনচার্জ সৌমেন দাস, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর ফাড়ির ইন্সপেক্টর তুষার মন্ডলসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

প্রঙ্গত, ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ২ টায় যশোর শহরের এম এম আলী রোডের ইউ সি বি এল ব্যাংকের সামনে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা আগমনী মোটরসের ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই করে। এসময় ছিনতাইকারী বোমা ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে কোতয়ালি থানার দুরত্ব প্রায় দেড়শো গজ। ছুরিকাঘাতে আহত এনামুলের অবস্থা আশংকাজনক হওয়া তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আহত এনামুল যশোর শহরের বকচর এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় এনামুলের ভাই আগমনী মোটরসের স্বত্তাধিকারি ইকবাল হোসেন ৩০ সেপ্টেম্বর কোতয়াইল থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি অজ্ঞাত দেখানো হয়। মামলা নম্বর ৮৮।