চট্টগ্রামে ভোটে সহিংসতা, নিহত ২

ctg news

বেলা যতই বাড়ছে চট্টগ্রামে ততই ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনী সহিংসতা। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যেই মূলত এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে। সহিংসতায় এ পর্যন্ত নগরীর পাহাড়তলী ও সরাইপাড়া ওয়ার্ডে দুজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক।

এছাড়া লালখান বাজার ওয়ার্ডেও ত্রিমুখী সংঘর্ষে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও তার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। কেন্দ্র দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষ ও সহিংসতা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় ভোটাররা।

এরমধ্যে সকাল ৯টার দিকে নগরীর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ইউসেফ আমবাগান কারিগরি স্কুল ভোট কেন্দ্র দখলের ঘটনায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে আলাউদ্দিন নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা প্রথমে হামলা চালায়। এতে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী মাহামুদুর রহমানের অনুসারীরা আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় আহত ৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে আলাউদ্দিন নামে এক তরুণকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। নিহত আলাউদ্দিন বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী মাহামুদুর রহমানের অনুসারী। এ ঘটনার জন্য ওয়াসিমের অনুসারীদের দায়ী করেছেন মাহমুদুর রহমান।

এদিকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়র জন্য নগরীর সরাইপাড়া ওয়ার্ডে ছুরিকাঘাতে একভাইকে খুন করেছে আরেক ভাই। নিহত ভাইয়ের নাম মো. নিজামউদ্দিন। আর ঘাতক ভাইয়ের নাম মো. সালাউদ্দিন কামরুল। বুধবার সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান পাহাড়তলী থানার ওসি (তদন্ত) রাশেদুল হক।

তিনি জানান, ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া নিজামউদ্দিন নগরীর ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাবের আহম্মদের কর্মী। ঘাতক সালাউদ্দিন কামরুল একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আমিনের কর্মী।

রাশেদুুল হক বলেন, বুধবার সকালে ভোট দিতে যাওয়ার সময় ঘাতক সালাউদ্দিন কামরুল ভাই নিজামউদ্দিনকে নুরুল আমিনের প্রতিকে ভোট দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু নিজামউদ্দিন তাতে রাজি না হলে দু‘জনের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে সালাউদ্দিন কামরুল নিজামউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু ঘটে। এছাড়া কেন্দ্র দখলের ঘটনায় নগরীর লালখান বাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলালের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে প্রতিপক্ষ দিদারুল আলম মাসুদের অনুসারীদের। এ ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জনেরও বেশি। তাদেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটেছে নগরীর বাকলিয়া, চান্দগাঁও, উল্টর পাহাড়তলী, পশ্চিম ষোলশহর, চকবাজার, রামপুর, উত্তর পতেঙ্গা, ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডেও। কেন্দ্র দখলের ঘটনায় এসব এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বিবদমান গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও ঘটনা ঘটতে পারে। এসব ঘটনায় ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি নেই বলে জানান স্থানীয়রা।

তবে সিএমপির উপ কমিশনার মো. আবদুল ওয়ারিশ বলেন, সহিংসতার খবর পাচ্ছি। তবে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।