নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে মনিরামপুর পৌর নির্বাচন সম্পন্ন, নৌকা বিজয়ী

mahamudul hasan

কেন্দ্র থেকে ধানেরশীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়া, জোরপূর্বক ব্যালটে সিল মারা, বিরোধীদলের ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাঁধা দেওয়া সহ বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে শনিবার (৩০ জানুয়ারি) যশোরের মনিরামপুরে পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

মুহু মুহু বোমার বিষ্ফোরন ঘটানো এবং মারপিটে এক কাউন্সিলর প্রার্থী, দুই এজেন্টসহ অন্তত: ১০ জন আহত হয়েছে।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রসহ কাউন্সিলর প্রার্থীদের জয় জয়াকার হয়েছে। ভোট গ্রহন শেষে সহকারি রির্টানিং অফিসার সহিদুর রহমান বে-সরকারীভাবে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসানকে বিজয়ী ঘোষনা করেন। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৯৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থানা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন ধানেরশীষ প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার সাত’শ ভোট।
অপর প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাষ্টার আবু তালেব হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৪১৪ ভোট।

এ নির্বাচনকে প্রহসনের উল্লেখ করে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন অভিযোগ করেন প্রশাসনের সহযোগীতায় সব কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যালট ছিনিয়ে সিল মারা হয়েছে।

তবে বিজয়ী প্রার্থী অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদল হাসান এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হওয়ায় তারা সব কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সহকারি রির্টানিং অফিসার সহিদুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে তিনি কোন লিখিত অভিযোগ পাননি।

বিএনপির প্রার্থী এ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন জানান, হাজার-হাজার বহিরাগত আওয়ামী লীগের লোকজন শুধু ভোটকেন্দ্র নয়, পৌর এলাকা দখল করে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের নিজ নিজ বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে অবরুদ্ধ করে রাখে। যে কারণে, ভোটাররা তেমন ভোটকেন্দ্রে না গেলেও প্রশাসনের সহযোগীতায় আওয়ামী লীগ নিজেরাই সকাল ১০ টার মধ্যে ইচ্ছামত ব্যালট পেপারে সীল মেরে নিয়েছে। এমনকি তার মেয়ে এবং স্ত্রীর কাছ থেকেও ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ধানেরশীষের অধিকাংশ ভোটারদের কাছ থেকে মেয়র প্রার্থীর ব্যালট কেড়ে নৌকার সিল মারা হয়েছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নৌকার প্রার্থী কাজী মাহমুদুল হাসানসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সংশ্লিষ্টরা।

পৌর এলাকার বিজয়রামপুর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত টেবিল ল্যাম্প প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী মাষ্টার হাবিবুর রহমান জানান, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় তাকে মারপিট করে আহত করাসহ কোন প্রকার ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। সকাল ৯ টার কিছুক্ষণ পূর্বে বিজয়রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের আশেপাশে একের পর এক ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করা হয়।

একই ওয়ার্ডের পাঞ্জাবী প্রতীকের অপর কাউন্সিলর প্রার্থী সন্তোষ স্বর জানান, তার উপর হামলা চালিয়ে পালবাড়ি নামক মোড় থেকে ভোটারদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

পার্শ্ববর্তী জুড়ানপুর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত পাঞ্জাবি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, জুড়ানপুর কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শাহিদুল ও রাজু নামে তার দুই জন এজেন্টকে মারপিটে রক্তাক্ত জখম করে একই দলীয় সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থী পক্ষের হামলাকারীরা।

বিএনপির অভিযোগ, শুধু বিজয়রামপুর ও জুড়ানপুর নয়, সব কেন্দ্র দখল করে ধানেরশীষের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। তবে কিছু কিছু ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটার উপস্থিতি স্বল্প সংখ্যক হলেও তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য লাইনে দাড়ান।

এ দিকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন ১ নংম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ আজিম, ২ নম্বর ওয়ার্ডে সুমন দাস, ৩ নং ওয়ার্ডে বাবুলাল চৌধুরী, ৪ নং ওয়ার্ডে আদম আলী, ৫ নং ওয়ার্ডে আসাদুজ্জামান মোড়ল, ৬নং ওয়ার্ডে রুহুল কুদ্দুস, ৭নং ওয়ার্ডে কামরুজ্জামান, ৮নং ওয়ার্ডে বাবুল আক্তার, ৯নং ওয়ার্ডে আইয়ুব পাটোয়ারী। সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডে অনিমা মিত্র, ২নং ওয়ার্ডে আপেলা খাতুন এবং ৩ নং ওয়ার্ডে গীতা রানী কুন্ডু।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাযায়, মোট ১২টি কেন্দ্রের ৬৯ বুথে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের আয়োজন করা হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৯৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৮৩৬ এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ১২৯ জন।