ফের বাঘারপাড়ার পৌর পিতা হলেন বাচ্চু

bacchu

দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা বাড়তে থাকে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান বাচ্চু দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ২শ’৫৫ ভোট। তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের সিদ্দিকী জগ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১শ’৮ ভোট।

এছাড়া বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের আব্দুল হাই মনা ২শ’৭৪, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইনামুল হক হাতপাখা প্রতীকে ২শ’৫২ ও নাঙ্গল প্রতীকের মহম্মদ আলী পেয়েছেন ২৮ ভোট।

কাউন্সিলর পদে এক নম্বর ওয়ার্ডে টেবিল্যাম্প প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন ফয়সাল আহমেদ। তিনি পেয়েছেন ৪০৬ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দী রবিউল ইসলাম উট পাখি প্রতীক নিয়ে ১১০ ভোট পেয়েছেন। দুই নম্বর ওয়ার্ডে শাহীন আলম টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে ৫৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী হাবিবুর রহমান উট পাখি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ ভোট। তিন নম্বর ওয়ার্ডে উটপাখি প্রতীক নিয়ে খবিউর রহমান ৩৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী ইয়ারুল ইসলাম পানির বোতল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৪৭ ভোট। চার নম্বর ওয়ার্ডে ডালিম প্রতীক নিয়ে ১৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন শরিফুল ইসলাম শরিফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী মিজানুর রহমান টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৪৭ ভোট। পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রিজ প্রতীক নিয়ে ২৬১ ভোট পেয়ে ওলিয়ার রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী সোহেল রানা টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে পেয়েছেন ১৮০ ভোট। ছয় নস্বর ওয়ার্ডে ৩৩৩ ভোট পেয়ে ডালিম প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সিরাজুল ইসলাম উজ্জল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী সোহরাব হোসেন উট পাখি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৬৯ ভোট। সাত নম্বর ওয়ার্ডে পানির বোতল প্রতীক নিয়ে ৪০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন শহিদুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ডালিম প্রতীকের হিরু আহমেদ পেয়েছেন ২২১ ভোট। আট নম্বর ওয়ার্ডে ডালিম প্রতীক নিয়ে ৩৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন শহিদুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী রিপন হোসেন উটপাখি প্রতীকে পেয়েছেন ২২৬ ভোট। নয় নম্বর ওয়ার্ডে ডালিম প্রতীক নিয়ে ২৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মোস্তাক আহমেদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী সকোত হোসেন উট পাখি প্রতীকে পেয়েছেন ১৯৪ ভোট।

এদিকে এক নম্বর ওয়ার্ডে চশমা প্রতীক নিয়ে সংরক্ষিত কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সম্পা রানী সরকার। তিনি পেয়েছেন ১০৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৭৬০ ভোট। সংরক্ষিত দুই নম্বর ওয়ার্ডে আনারস প্রতীকে ৬৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন নমিতা রানী শর্মা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জবা ফুল প্রতীকের হাওয়া খাতুন পেয়েছেন ৪৪৩ ভোট এবং তিন নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে চশমা প্রতীক নিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন তাসলিমা খাতুন। তিনি পেয়েছেন ৯০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জ্যোৎস্না খাতুন জবা ফুল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭৭ ভোট।

পাঁচজন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও এই নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর ২৮ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে নয় জনসহ মোট ৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেন।

উল্লেখ্য, বাঘারপাড়া পৌরসভার মোট ৭ হাজার ৪শ’৯২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট প্রদান করেন ৬ হাজার ২শ’৪৬ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৩শ’২৯টি ভোট।