রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিচ্ছে ডব্লিউএফপি

rohinga camp

কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে ১৬ নম্বর ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ২০০ জন রোহিঙ্গাকে গরম খাবার সরবরাহ করছে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। এ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৫শটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার ১০ জানুয়ারি ডব্লিউএফবি থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রোববার ৯ জানুয়ারি রাতের অগ্নিকাণ্ডের পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে ডব্লিউএফপি ও তার অংশীদার বাংলাদেশি এনজিও রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার ৩২৮টি পরিবারকে উচ্চ পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুট সরবরাহ করেছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে এই পরিবারগুলোর কেউ তাদের ঘর হারিয়েছে আবার কারও রান্নার সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। যেসব পরিবারের রান্নার কোনো ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে সোমবার থেকে ডব্লিউএফপির পক্ষ থেকে দিনে দুইবার করে রান্না করা গরম খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

যতদিন পর্যন্ত এই পরিবারগুলোর ঘর পুনর্নির্মাণ করা না হচ্ছে ও তাদের জন্য রান্না করার গ্যাসসহ রান্নার অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যবস্থা না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এই গরম খাবার সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। আর পরিবার গুলোকে ডব্লিউএফপির নিয়মিত খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

কক্সবাজারে ডব্লিউএফপির সিনিয়র ইমার্জেন্সি কো-অর্ডিনেটর ও শীর্ষ কর্মকর্তা শিলা গ্রুডেম বলেন, ১৬ নম্বর ক্যাম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দেখে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।

সৌভাগ্যক্রমে, বিভিন্ন জাতীয় সংস্থা, জাতিসংঘ সংস্থা, খুচরা বিক্রেতা ও স্থানীয় রেস্টুরেন্টের সঙ্গে অংশী দারিত্বের কল্যাণে, সর্বস্ব হারানো এই রোহিঙ্গাকে তাৎক্ষণিকভাবে ত্রাণ দেয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে, আর এজন্য আমরা প্রত্যেকেই কাজ করে যাচ্ছি।

কক্সবাজারে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির, যাতে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করে। বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি রোহিঙ্গাদের ঘনবসতিপূর্ণ ঘরগুলোতে আগুন লাগা অন্যতম এক বিপজ্জনক ব্যাপার, যা রোহিঙ্গাদের ঝুঁকির মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

২০২১ সালের মার্চে অগ্নিকাণ্ডে ১০ হাজার ঘর পুড়েছিল আর বাস্তুচ্যুত হয়েছিল কমপক্ষে ৪৫ হাজার মানুষ। এছাড়া ২০২১ সালের জুলাইয়ে তীব্র বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা। সেসময় বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছিল।