খুলনা সিএসডিতে পঁচা গম-চালে সয়লাব নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে বিব্রত খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা । ওই রিপোর্টের পর কর্মস্থল থেকে দ্রুত বদলী হয়ে নিজের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছেন সিএসডির ব্যবস্থাপক এইচ এম কামরুজ্জামান । বদলীর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন। পঁচা গমগুলো ভালো গমের সাথে মিক্স করে লুকানো চেষ্টা করা হচ্ছে । বিভিন্ন গুদাম ইনচার্জেরা ঘাটতি পূরণে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ফলে ঘটনাটির সঠিক তদন্ত করে সিএসডির পঁচা গম -চাল শনাক্ত ও পরিমাপ করে কামরুজ্জামানের কাছ থেকে তার ক্ষতিপূরণ আদায়ের জোর দাবী উঠেছে।
সরেজমিনে খুলনা খুলনা কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি ) এর নষ্ট পঁচা গম চালের তথ্য অনুসন্ধানে আরো চঞ্চল্যকর খবব বেরিয়ে আসছে । নিয়মিত অফিস করেন না সিএসডির ব্যবস্থাপক এইচ এম কামরুজ্জামান ।
তিনি অফিসে যতক্ষণ থাকেন, সর্বদাই ব্যস্ত থাকেন খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চাল – গম গ্রহণ বাবদ অনৈতিক অর্থ আদায়ের ব্যাপারে । বিভিন্ন জেলা থেকে খাদ্য গুদাম ইনচার্জেরা কোয়ালিটি সম্পন্ন মাল নিয়ে গেলেও টাকা ছাড়া তিনি ওই মাল গ্রহণ করেন না । খাদ্যশস্যের গুণাগতমান নিশ্চিত করা তার প্রধান কাজ হলেও ওই ব্যাপারে তিনি একেবারে উদাসীন । ফলে অযত্ন – অবহেলায়ও দীর্ঘদিন গুদামে মজুদ থাকা খাদ্যশস্য নষ্ট হয়ে গেছে।
সুত্র বলছে, বিগত বছরগুলোতে বিদেশ থেকে আমদানি করা গমগুলো নষ্ট ও পঁচা ছিল বলে প্রচার করে কামরুজ্জামান রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন । কিন্তু ওই গম একই সময় খুলনার মহেশ্বরপাশার সিএসডিতে মজুদ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই গম নিয়ে আজও কোন অভিযোগ ওঠেনি। বিদেশ থেকে আসা ওই গম খুলনা সিএসডির ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান অর্থের বিনিময়ে কিছু ফ্লাওয়ার মিল মালিকদের কাছ থেকে পাল্টিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া ওই সময় গম সরবরাহ করা সরকারের সাথে চুক্তিকৃত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে পানিতে ভেজা গম গ্রহণ করেছেন । যার ফলে গমগুলো খাবার অযোগ্য হয়ে গেছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে ।
সুত্র বলছে , বর্তমানে খুলনা সিএসডিতে থাকা পঁচা গম ভালো গমের সাথে মিক্স করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ট্রাকে ভালো গমের বস্তার মধ্যে কিছু পঁচা গমের বস্তা ঢুকিয়ে দেওয়া চেষ্টা করা হচ্ছে । খুলনা সিএসডির শুধুমাত্র জাকিরের গুদামে প্রায় ৭০ টন খাদ্যশস্য ঘাটতি আছে । জাকির এএসআই। নিয়ম হচ্ছে, গুদামের দায়িত্বে সাব ইন্সপেক্টরদের বসাতে হবে । কিন্তু যথেষ্ট সাব ইন্সপেক্টর থাকার সত্বেও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে জাকিরকে গুদামের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন কামরুজ্জামান। গত বছর জাকির ও কামরুজ্জামান মিলে ঝিনাইদহ থেকে আসা কয়েক গাড়ি চাল গুদামে না ঢুকিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে জাকিরের গুদাম ছাড়াও একাধিক গুদামে প্রায় দেড়শ টন চাল-গম ঘাটতি আছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্রে যার সত্যতা মিলেছে । গুদামের ঘাটতি পূরণ করতে বাইরে থেকে চাল-গম কেনার চেষ্টাও করা হচ্ছে । অবিলম্বে ঘাটতি থাকা ওই গুদামগুলো সিলগালা করে এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী উঠেছে ।
সুত্র বলছে , খুলনা সিএসডির ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান ফ্যাসিস্টের দোসর ছিলেন । ওই সময় তিনি দুর্নীতি ও অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । কিন্তু ফ্যাসিস্ট পালালেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না । কিসের ভিত্তিতে একটা কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারে কামরুজ্জামানের মত একজন ফ্যাসিস্ট ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে তার কোন সুদুত্তর মিলছে না । এইজন্য সমগ্র খুলনা বিভাগের খাদ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে সমালোচনা ঝড় বইছে । অবিলম্বে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সিএসডিতে মজুদ থাকা খাদ্যশস্যের গুণগতমান যাচাই করে নষ্ট ও খাওয়ার অযোগ্য গমগুলো ঝেড়ে পরিষ্কার এবং ওজন নির্ধারণ করে কামরুজ্জামানের কাছ থেকে তার ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবী উঠেছে ।
খুলনা সিএসডি কর্মরত ফ্যাসিস্টের অপর দোসর খাদ্য পরিদর্শক অচিন্ত্য কুমার দাসের বিরুদ্ধে আরো ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য মিলছে । তিনি চাকরি কালীন অফিস ফাঁকি দিয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মীর শওকাত আলী বাদশার এপিএসের দায়িত্ব পালন করছেন ।
তখন তিনি কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেননি । যার ফলে ১৫ জুলাই খাদ্য পরিদর্শক অচীন কুমার দাসের দুই কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দশ দিয়েছে আদালত।
কিন্তু এখনো অচীন কুমার দাসের নামে বেনামে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ । ভারতে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি ও গাড়ি। যার দাম কয়েক শ কোটি টাকা । বিগত বছরগুলোতে খাদ্য অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই তিনি প্রায় শতাধিকবার পাসপোর্ট ভিসার মাধ্যমে ভারতে গেছেন । সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমতি ছাড়াই কিভাবে তিনি একাধিকবার ভারতে যাতায়াত করেছেন তার কোন জবাব নেই । অচীন কুমার দাসের ভারতের নাগরিকত্ব রয়েছে বলে একাধিক সুত্র দাবী করেছে । কিন্তু এখনো পর্যন্ত খাদ্য অধিদপ্তর থেকে তার বিরুদ্ধে কোন উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি ।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে খুলনা সিএসডির ম্যানেজার এইচ এম কামরুজ্জামান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সবগুলো ভিত্তিহীন কথা । সিএসডিতে কোন ত্রুটি নেই । কোন চাল গমের সংকট নেই । আপনাকে কেউ মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য খুলনা সিএসডির খাদ্যশস্যের কোয়ালিটি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা খাদ্য পরিদর্শক অচীন কুমার দাসের মোবাইল একাধিকবার কল করা হলো তিনি রিসিভ করেননি ।
উল্লেখ্য গত ২৩ জুলাই ওয়ান নিউজ বিডি ডটকমে পঁচা গম-চালে সয়লাব খুলনা সিএসডি : নিশ্চুপ কর্তৃপক্ষ শিরোনামে প্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয় ।







