যশোর স্বামী পরিচয়ে প্রতারণা, বিয়ে ও জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নড়াইল জেলার এক স্বামী পরিত্যক্তা নারী খালেদা খানমকে বিয়ে ও তালাকের নামে প্রতারণা, জিম্মি করে অর্থ ও স্বর্ণালংকার আদায়ের অভিযোগ উঠেছে যশোরের এক পরিবহন ব্যবসায়ীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী খালেদা খানম জানান, কিছুদিন আগে যশোরে ঘুরতে এসে পরিবহন ব্যবসায়ী ইসমাইল ভূঁইয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ইসমাইল নিজেকে স্ত্রী থেকে আলাদা বলে পরিচয় দিলে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর ইসমাইল মাঝে মধ্যে নড়াইলে তার কাছে যেতেন এবং তিনিও যশোরে এসে স্বামীর সঙ্গে সময় কাটাতেন। সর্বশেষ পবিত্র ঈদুল ফিতরেও তারা একসঙ্গে বিনোদিয়া পার্কে ঘুরতে যান। তবে এর কিছুদিন পর থেকেই ইসমাইল তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং খারাপ আচরণ শুরু করেন।

খালেদা আরও জানান, গত ২৯ মার্চ বিকেলে ইসমাইল তাকে যশোরের বকচরে আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি আর ইসমাইলের কোনো খোঁজ পাননি। পরে স্থানীয় মহুরি কামরুল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্দুর রউফকে ডেকে আনেন।

অভিযোগে বলা হয়, আব্দুর রউফ তাকে ইসমাইলের বাড়িতে তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। অসহায় অবস্থায় খালেদা তাতে সম্মতি দিলে তারা তার কাছ থেকে কাবিননামা নিয়ে নেয় এবং নগদ ৬ হাজার টাকা ও একটি সোনার আংটি হাতিয়ে নেয়।

এরপর তাকে দুই দিন কামরুলের বাড়িতে আটকে রেখে ইসমাইলের সঙ্গে যোগসাজশে জিম্মি করে রাখা হয়। এ সময় জোরপূর্বক একাধিক কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে হুমকি দিয়ে তাকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

পরে খালেদা জানতে পারেন, ইসমাইল তাকে তালাক দিয়েছেন। এমনকি ৫ লাখ টাকার দেনমোহরের পরিবর্তে মাত্র ৫ হাজার টাকা উল্লেখ করে কাবিননামা ও তালাকনামা ডাকযোগে নড়াইলে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় বিচার চেয়ে গত ১ এপ্রিল তিনি যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের কাছেও গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করে খালেদা খানম সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি যুবদল নেতা আব্দুর রউফ, মহুরি কামরুল এবং ইসমাইল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।