ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষকের হত্যাকান্ডে গভীর শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে।গত ৪ মার্চ নিজ অফিসকক্ষ হত্যাকাণ্ডের শিকারহন সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান আসমা সাদিয়া রুনা।এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকবৃন্দ “শোক ও প্রতিবাদের মৌন মিছিল” কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পূর্বনির্ধারিত স্থানে শেষ হয়। মিছিলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মিছিলে শিক্ষার্থীরা “আমরা নীরব, কিন্তু আমাদের দাবি স্পষ্ট”, “শিক্ষকের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব”, “বিচারহীনতার চর্চা বন্ধ করো” ও “Justice for Run, Stop Violence Now” শীর্ষক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
মৌন মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের নিরাপত্তা জোরদার করা।
মিছিল শেষে শিক্ষকরা বলেন, রুনা হত্যার তদন্তে অপরাধী কাওকে যেন বাঁচানোর চেষ্টা না করা হয় একইসাথে নিরপরাধ কাওকে যেন ফাঁসানোর চেষ্টা না করা হয়৷ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে এই ঘটনার বিচার হতে হবে। রুনার পরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে এখনো নূন্যতম কোন আর্থিক সহযোগিতা পাননি। রুনার চারটি সন্তান রয়েছে ,তাদের দিকে প্রশাসনকে নজর দেওয়ার আহবান জানাই।
বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তিয়াশা চাকমা বলেন, “আমরা শোকাহত আমরা ক্ষুব্ধ আমরা নীরব, কিন্তু আমাদের দাবি স্পষ্ট। রুনা হত্যার ঘটনায় যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে তাদের যেন দ্রুত বিচার হয় এবং যাদের নূন্যতম সংশ্লিষ্টতা নেই তাদের যেন শাস্তি না হয়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করে বিচারহীনতার যে চর্চা আমরা দেখে এসেছি তার যেন নিষ্পত্তি করা হয়।”
গাজী মোহাম্মদ মাহবুব মুর্শিদ বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত আছে তাদের বিচার চাই। প্রশাসন যেন কোনো ধরনের সাহায্য না করে তাদের। এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করি আসমা সাদিয়া রুনার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার জন্য। আশা করি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের অন্যায়,অবিচারের পথ বন্ধ হবে।”
এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর হত্যাকাণ্ডেরও বিচার চেয়েছেন তারা৷







