অবশেষে খুলনা সিএসডির বহুল আলোচিত ব্যবস্থাপক এইচ এম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে খাদ্য অধিদপ্তর । সোমবার খাদ্য অধিদপ্তর থেকে তাকে ময়মনসিংহে বিভাগীয় বদলী করা হয়েছে । তার স্থলে দেওয়া হয়েছে খুলনা রুপসা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা এস এম ইকবাল হোসেনকে । তবে কামরুজ্জামানের কাছ থেকে খুলনা সিএসডিতে নষ্ট ও পঁচা গম-চাল বাবদ ক্ষতিপূরণ আদায় না করায় খুলনা বিভাগের ওসিএলএসডিদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে ।
সংশ্লিষ্ট সুত্র অনুসারে , ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর খুলনা সিএসডির ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন এইচ এম কামরুজ্জামান । তখন তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদারের জামাই মাগুরার জেলা প্রশাসক নাসির বেগকে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ওই পদে বদলী হয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খুলনা বিভাগের একটা কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারে তার যোগদান নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয় । কারণ বিগত সময় তার বিরুদ্ধে
দুর্নীতিও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ ছিল । গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সংরক্ষণাগারে বদলীর ক্ষেত্রে অবশ্যই ওই কর্মকর্তার নীতি নৈতিকতা যাচাই যাচাই-বাছাই প্রয়োজন । কিন্তু কামরুজ্জামানের ক্ষেত্রে তার কোনটি মানা হয়নি । খুলনা সিএসডিতে যোগদান করে তিনি নানা অনিয়মে জড়িয়ে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করেন ।
সিএসডিতে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ওসিএলএসডিরা চাল ও গম নিয়ে গেলে তিনি নানা অজুহাতে তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করতেন । ফলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের গুদাম ইনচার্জেরা। কিন্তু রাজনীতিকভাবে ক্ষমতাধর হওয়ার তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নিই।
শত অপকর্ম করেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে । বিশেষ করে সিএসডির গুণাগত ভালো মানের চাল-গম কালোবাজারি বিক্রি করে পঁচা ও নিম্নমানের মাল গুদামে জমা করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা কামরুজ্জামান সরকারী চাকরি করেও এমন কোন অনিয়ম নেই যা করেন নিই । ফ্যাসিস্টের দোসর হওয়ার সত্বেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নানা সমালোচনা সৃষ্টি হয় ।
সম্প্রতি খুলনা সিএসডি থেকে ঝিনাইদহ সদর খাদ্য গুদামে পঁচা গম পাঠিয়ে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন । তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন ।
কামরুজ্জামানের দুর্নীতি ও অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা ওয়ান নিউজ বিডি ডটকমে গত ২৩ জুলাই ‘পঁচা গম-চালে সয়লাব খুলনা সিএসডি : নিশ্চুপ কর্তৃপক্ষ’ এবং ২৯ জুলাই
‘দ্রুত বদলী হয়ে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা খুলনা সিএসডি ম্যানেজারের : ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবী’ শিরোনামে দুটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ।
ওই রিপোর্টের পর নড়েচড়ে বসে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা । কামরুজ্জামানের দুর্নীতি অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে খুলনার
কারিগরি খাদ্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল হাসান (ভিপি) ও রুপসা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় ।
৪ আগষ্ট অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ৭৫ ৭ নম্বর স্বারকে খুলনা সিএসডি ব্যবস্থাপক এইচ এম কামরুজ্জামানকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলী করা হয়েছে।
বদলীর নীতিমালা ২০১৯ ( সংশোধিত ২০২২) এর অনুচ্ছেদ-২ এর ক ও খ অনুযায়ী যা কার্যকর করা হয় । তবে খুলনা সিএসডির ব্যবস্থাপক এইচ এম কামরুজ্জামানকে শাস্তিমূলক বদলী করা হলেও তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় না করায় নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে । সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করায় তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা ।
কামরুজ্জামানকে বদলী করা হলো হলেও খুলনা সিএসডির সহকারী ব্যবস্থাপক অচীন কুমার দাস এখনো বহাল তবিয়ত রয়েছেন। তিনিও ফ্যাসিস্টের অন্যতম দোসর ছিলেন







