কিছু বিষয় হারিয়ে গেলে ঐতিহ্যও হারিয়ে যায়-ড. আরেফিন সিদ্দিক

World Read Allowed Day

শব্দ করে পড়ি, নিজেকে আবিষ্কার করি- এই স্লোগানে পালিত হয়েছে বিশ্ব শব্দ করে পড়া দিবস ২০২১ (ওয়ার্ল্ড রিড অ্যালাউড ডে ২০২১)।

সোমবার (১ ফ্রেবুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে রিড অ্যালাউড বাংলাদেশের উদ্যোগে শব্দ করে পড়ার বিভিন্ন উপকারিতা নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। পরে অনলাইন কুইজে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে সনদপত্র প্রদান করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ ওমর ফারুক। সভাপতিত্ব করেন রিড অ্যালাউড বাংলাদেশের রূপকার রূপক সিংহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘মাদরাসা, মসজিদে শব্দ করে পড়ানোর ঐতিহ্য ছিল, এখনও আছে। আগে গ্রামের বাড়িগুলো থেকে শব্দ করে পড়ার আভাস পাওয়া যেত, এখন পাওয়া যায় না। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় হারিয়ে গেলে ঐতিহ্যও হারিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, এই ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা এই দিবস উদযাপন করছি। কিন্তু আমি বলবো, আমরা কী সচেতনভাবে বাংলা শেখার চেষ্টা করি বা বাংলা উচ্চারণ শিখি, যতটা সচেতনভাবে ইংরেজি ভাষা শেখার চেষ্টা করি? আর যেকোনো ভাষার উচ্চারণ শিখতে হলে শব্দ করে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে আমরা যারা বাঙালি, তাদেরকেই শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণ শিখতে শব্দ করে পড়তে হবে। তা নাহলে তো বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ হারিয়ে যাবে। এজন্য আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। পাশাপাশি বিশেষভাবে বাংলা ভাষা শেখার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা রূপক সিংহ গত ৩-৪ বছর যাবৎ এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আগামী প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাতে তাদের এই প্রচেষ্টার সাথে আমি ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আর এই শব্দ করে পড়ার বিষয়টিকে সেমিনার এবং র‌্যালি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, আসলে আমরাতো কখনো চিন্তাই করিনি এই শব্দ করে পড়া বিষয়টি কতটা জরুরী! আমার-আপনার সন্তানেরা আসলেই কি শব্দ করে পড়ে? এই প্রসঙ্গে আমি একটা গল্প বলি- আমার এক কাজিন ইংরেজিতে পড়তে ছিল ইসল্যান্ড ইসল্যান্ড! তো আমি বললাম দেখিতো তুই কি ইসল্যান্ড ইসল্যান্ড পড়ছিস। তখন সে আমাকে বলল এই যে ইসল্যান্ড (আসলেই আইল্যান্ড)। পরে আমি বললাম আরে বোকা এটাতো আইল্যান্ড! এতেই বোঝা যাচ্ছে শব্দ করে পড়া আমাদের কতটা জরুরী। শুধু একটি সংগঠন নয় আমি সরকারকে আহ্বান করবো আগামীতে সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে এই উদ্যোগটি হতে পারে আদর্শ। স্কুলে স্কুলে এটি ছড়িয়ে দিতে হবে। অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের বোঝাতে হবে আসলে শব্দ করে পড়া কতটা জরুরী।

সভাপতির বক্তেব্যে রূপক সিংহ বলেন, আমার থেকে আমাদের মধ্যে এই শব্দ করে পড়ার আন্দোলন শুরু করেছি। এই আন্দোলন প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি স্কুলে, প্রতিটি পরিবারে চলছে চলবে। আপনারা যদি আমাদের সাথে থাকেন তবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে আমরা একসাথে পথ চলবো। একটি শিশুর শারিরীক, মানসিক বিকাশ নির্ভর করে শিশু শিক্ষার ওপরে। মায়ের সাথে সন্তানের সর্ম্পক যেমন অবিচ্ছেদ্য। শিক্ষার্থীর সাথে শব্দ করে পড়ার সম্পর্কও তেমনি অবিচ্ছেদ্য। অতএব শব্দ করে পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মেহেদি হাসান, মার্কটেল বাংলাদেশের সিইও ড. শরিফুল ইসলাম দুলু।

অনুষ্ঠানে রিড অ্যালাউড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

এছাড়াও আয়োজিত অনুষ্ঠানে রিড অ্যালাউড ডে ২০২১ উপলক্ষে অনলাইনে ভিডিও পাঠানোর মাধ্যমে কুইজে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা হয়। এই সনদটি শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে ১০জন বিজয়ীকে দেয়া হয়। যার মধ্যে অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন। এবং পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের ভিত্তিতে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি বাকি আরো ১০ জন বিজয়ীর নাম ঘোষণার করা হবে। কুরিয়ারের মাধ্যমে ২১ তারিখের পর সনদপত্র ও পুরস্কার পাঠানো হবে।