যশোরের সাংবাদিক তবিবরের চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

tobibor bike

যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক সমাজের কথার চিফ রিপোর্টার তবিবর রহমানের চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি অবশেষে উদ্ধার হয়েছে। চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার রাতে পুলিশ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে যশোর শহরের এমএম আলী রোডের সমবায় ব্যাংকের পেছনে চতুর্থ তলা ভবনের বাসার সামনে রাখা সাংবাদিক তবিবর রহমানের লাল রঙের ওই হিরো হোন্ডা মোটর সাইকেলটি চুরি হয়।

আটককৃতরা হলেন, যশোর শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা রোডের চৌধুরী হুমায়ুন রেজার ছেলে চৌধুরী সায়েম রেজা সজল ও লোন অফিসপাড়া মাছ বাজার বরফ কল এলাকার মৃত মনির আহম্মেদ মিন্টুর ছেলে সাইক আহম্মেদ সাইক।

সূত্র মতে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি শার্শা উপজেলার নাভারণে ওই মোটরসাইকেলসহ দুই যুবককে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। তখন মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট ছিল না। শার্শা থানা পুলিশ ওই মোটরসাইকেল রেখে দিয়ে আটক দু’জনকে কাগজপত্র নিয়ে আসার শর্তে ছেড়ে দেয়। এরপর থানার এসআই মেহেদী মালিকানা যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএকে চিঠি দেন। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশ মোটরসাইকেলটির মালিকানা জানতে পারে। পুলিশ নিশ্চিত হয় এ মোটরসাইকেলটি সাংবাদিক তবিবর রহমানের চুরি যাওয়া সেই গাড়ি। পরে শার্শা থানায় যোগাযোগ করেন তবিবর রহমানের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইদুর রহমান। তিনিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা শার্শা পুলিশের ছেড়ে দেওয়া সেই দুই যুবকের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামেন। রোববার রাতে অভিযুক্ত যশোর শহরের নলডাঙ্গা রোডের চৌধুরী সায়েম রেজা সজল ও লোন অফিসপাড়া মাছ বাজার বরফ কল এলাকার সাইক আহম্মেদ সাইককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ৩ ফেব্রুয়ারি চুরির ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তৎকালীন ওসি মনিরুজ্জামান যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যুগ্ম-সম্পাদক তবিবর রহমান ও সাবেক সহসভাপতি প্রণব দাসের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এরপর প্রেসক্লাব যশোর, যশোর সংবাদপত্র পরিষদ, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর ও যশোর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশ নেতৃবৃন্দ নবাগত পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদারের সাথে দেখা করে ওসির সেই ভূমিকায় ক্ষোভ জানিয়ে ও মোটরসাইলে উদ্ধার তৎপরতা বাড়ানোর দাবি করেন।
এসপি প্রলয় কুমার জোয়ারদার ওসির অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ওসির বদলি করার কথা জানান। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ওসি মনিরুজ্জামানকে বদলি করা হয়। আর সবশেষে মোটরসাইকেল উদ্ধার ও জড়িত দু’জনকে আটক করা হলো।