ছয় দিনের ব্যবধানে পাটগ্রামে বিএসএফের গুলিতে আরেক বাংলাদেশি নিহত

ফাইল ফটো

এক সপ্তাহের ব্যবধানে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছোড়া গুলিতে জাহিদুল ইসলাম (২২) নামে আবারো এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। জাহিদুল শ্রীরামপুর ইউনিয়নের মধ্য ইসলামপুর গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে। তিনি সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার করতেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় বাংলাদেশি গরু পারাপারকারী একটি দল গরু আনতে যায়। এ সময় বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় জাহিদুল। গুলিতে ভারতীয় ও বাংলাদেশি আরো একজন করে গরু পারাপারকারী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজিবি ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন সীমান্তের ৮৫২ নম্বর মেইন পিলার ও সাব পিলার ৫ নম্বরের পাশ দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় বাংলাদেশি গরু পারাপারকারীদের ৭/৮ জনের একটি দল ভারত থেকে গরু আনতে যায়। এ সময় বিএসএফের কৌশিক ক্যাম্প ও রতনপুর ক্যাম্পের মাঝামাঝি সীমান্তে পৌঁছলে ভারতের ১৪০ রাণীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের রতনপুর ক্যাম্পের টহলদলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিতে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের মধ্য ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা দুলাল হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

বিএসএফের ছোড়া গুলিতে ভারতীয় একজন ও বাংলাদেশি আরো একজন গরু পারাপারকারী আহত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত সূত্র জানা গেছে। তবে আহতদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। নিহত বাংলাদেশির লাশ ভারতীয় সীমান্ত অংশে দুপুর পর্যন্ত পড়ে থাকে। দুপুর ১টায় ভারতের মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

শমসের নগর বিজিবি ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার সুবেদার আজহারুল বলেন, সীমান্তে একজন মারা যাওয়ার কথা শুনেছি। তবে ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি না ভারতীয় নাগরিক তা এখনো জানা যায়নি। বিএসএফের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা লাশের ছবি দিতে চেয়েছে। ছবি দেখে চেনা যাবে সে বাংলাদেশি না ভারতীয়। এ বিষয়ে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর ভোরে ওই ইউনিয়নের ৮৪৪ নম্বর মেইন পিলার সীমান্তে বিএসএফের ছোড়া গুলিতে আবু তালেব (৩২) নামে গরু পারাপারকারী যুবক গুরুতর আহত হয়। পরে রংপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনার ৬ দিনের মাথায় বিএসএফের ছোড়া গুলিতে আবারো জাহিদুল ইসলাম (২২) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়।