অবশেষে মনিরামপুরে এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার

sayma hasan

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর যশোরের মনিরামপুর উপজেলার এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানকে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হয়েছে। সকালে সাংবাদিকদের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবীব।

নভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যশোরের মনিরামপুরে মাক্স না পরার দায়ে ২৭ মার্চ শুক্রবার বিকেলে ভ্রাম্যমান আদালত ৪ বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে দাড় করিয়ে রাখেন। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সহকারি কমিশনার(ভূমি) সাইয়েমা হাসান ভ্রাম্যমান আদালতে এ শাস্তি দেন। শুধু তাই নয়, কান ধরিয়ে দাড় করিয়ে রাখার পর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিজে ওই চিত্র তার মোবাইলে ধারন করেন। রাতে এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নানা সামলোচনার ঝড় ওঠে।

একাধিক মিডিয়ায় এই সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর মন্ত্রী পরিষদ সচিব আজ শনিবার ২৮ মার্চ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবার বিষয়টি মিডিয়াকে নিশ্চিত করার পরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলো।

এবিষয়ে যশোর জেলা আওয়ামীলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, যাই কিছু করতে হবে জনগনের মঙ্গলের জন্য করতে হবে। কাউকে মনে আঘাত দিয়ে কাজ করা যাবে না। অতিউৎসাহিত হয়ে কিছু করা যাবে না। সব কিছু সহনশীলতার মধ্যে দিয়ে করতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে। সরকার তাকে প্রত্যাহার করেছে। সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বগত জানায়।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মণিরামপুরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হয়ে আইন মেনে সবাইকে ঘরে থাকার আহবান জানাচ্ছেন তারা। বিষয়টি তদারকিতে বেশ তৎপরও প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে উপজেলার শ্যামকুড়, নেহালপুর, মনোহরপুর ও কপালিয়া এলাকায় অভিযানে বের হন এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান।
অভিযানকালে চিনাটোলা বাজারে ৭০-৭৫ বছর বয়সী এক ভ্যান চালক সামনে পড়েন এসিল্যান্ডের। তখন মাস্ক না পরায় ওই বৃদ্ধকে কানে ধরিয়ে শাস্তি দেন তিনি। একই সময়ে ওই বাজারে তরকারি বিক্রি করতে আসা দুই ষাটোর্ধ বৃদ্ধকে একই অপরাধে একত্রে দাঁড় করিয়ে কানে ধরান তিনি। ওই দৃশ্য দুটি নিজের মোবাইলে ধারণও করেন এসিল্যান্ড।
এরপর নেহালপুর এলাকায় একটি বাজারে হতদরিদ্র এক দিনমজুরকে মাস্ক না পরার অপরাধে কানে ধরিয়ে উঠবস করান এসিল্যান্ড।
জানতে চাইলে এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান কানে ধরানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাদেরকে মাস্ক ব্যবহার না করার কারণ জিজ্ঞেস করেছি তারা জবাব দিতে পারেনি। তাই কানে ধরিয়েছি। কাউকে উঠবস করানো হয়নি। কানে ধরানোর বিষয়টি সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, দমন ও নির্মূল) আইন ২০১৮ মতে সঠিক বলে দাবি করেছেন তিনি।