ভারতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলে ৮৫ শতাংশ যাত্রী নেয়ার অনুমতি

biman air flying

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী যেসব সেক্টর সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছিল তার মধ্যে অন্যতম আকাশপথে চলাচল। মহামারির এই নেতিবাচক প্রভাবের বাইরে ছিল না ভারতও।

তবে পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে আসতেই এবার আকাশপথে চলাচলে আরও ছাড় দিলো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ভারতে অভ্যন্তরীণ বিমান সেবায় ইতোপূর্বে ধারণক্ষমতার ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছিল।

তবে শনিবার ঘোষণা করা নতুন নির্দেশনায় করোনা মহামারির আগের সময়ের মতো করে ৮৫ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বিমান চলাচলে ছাড় দিয়েছে দেশটি। ফলে করোনাকে পাশ কাটিয়ে ভারতে বিমান সেবা স্বাভাবিক হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

করোনা মহামারির ভয়াবহতার কারণে ২০২০ সালের মার্চে ভারতে লকডাউন জারি করা হয়। লকডাউনের কারণে সেসময় দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন স্তব্ধ হয়ে যায়, তেমনই বিমান ও রেলওয়ের মতো যানও চলাচল স্থগিত হয়ে যায়।

পরবর্তীকালে বিমান সেবা চালু হলেও সেসময় কেবল অল্প সংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। সেই জায়গা থেকে সর্বশেষ এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে বড় বিষয়। জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে ধাপে ধাপে যাত্রী সংখ্যা বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে নিয়ে আসার চেষ্টায় রয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার।

করোনা মহামারি ও এর জেরে সৃষ্ট লকডাউনকালে ভারতে বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর পরিস্থিতি চাঙ্গা করতে উদ্যোগ নেয় মোদি সরকার। ২০২০ সালে প্রায় ২ মাস বিমান চলাচল করোনার জন্য বন্ধ থাকার পর চালু করা হয়। সেই সময় ৩৩ শতাংশ যাত্রী সংখ্যা নিয়ে শুরু হয় বিমানের অভ্যন্তরীণ চলাচল।

৩৩ শতাংশ যাত্রী চলাচল শুরু হওয়ার পর একটা সময় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে ঘরোয়া বিমান চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়। সেই সময় ভারতে ফের করোনার প্রকোপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে সেই সময় দেশে কার্যত হাহাকার শুরু হয়। মারা যায় বহু মানুষ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে মহামারির প্রকোপ অনেকটা কমে আসায় ফের ধারণক্ষমতার ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে চলাচলের অনুমতি দিলো নরেন্দ্র মোদির সরকার। সূত্র: এএনআই